দেশের মানুষ ভালো নেই, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। বাজেট নিয়েও তীব্র সমালোচনা।
জনগণ ভালো নেই, দেশের পাশা উল্টে গেছে: মান্নার উদ্বেগ
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেছেন, দেশের জনগণ ভালো নেই এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর যে প্রত্যাশা সৃষ্টি হয়েছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। তাঁর ভাষায়, “পাশা পুরো উল্টে গেছে।”
রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক স্মরণসভায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা মোস্তফা মহসিন মন্টুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে।
গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি: মান্না
বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি আন্দোলনের সময় নিহতদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে বলেন, যারা জীবন বাজি রেখে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন, তারা একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণমুখী রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছিলেন।
তিনি বলেন, আন্দোলনের পর দেশের মানুষ যে পরিবর্তনের আশা করেছিল, বাস্তবে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। জনগণের কাঙ্ক্ষিত অধিকার, গণতান্ত্রিক পরিবেশ এবং অর্থনৈতিক স্বস্তি এখনও অধরাই রয়ে গেছে।
মান্নার মতে, দেশের বর্তমান বাস্তবতা অনেক নাগরিকের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
রাজনৈতিক ঐক্যের আহ্বান
দেশের সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি ঐক্যের আহ্বান জানান নাগরিক ঐক্যের সভাপতি। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকারের জন্য সংগ্রাম করা প্রগতিশীল রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ন্যূনতম কর্মসূচির ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
তার মতে, বিভক্ত রাজনৈতিক অবস্থান দেশের সমস্যাগুলোকে আরও জটিল করে তুলছে। তাই জনগণের স্বার্থে বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতা ও সহযোগিতা প্রয়োজন।
বাজেট নিয়ে তীব্র সমালোচনা
সম্প্রতি ঘোষিত ৯ লাখ কোটি টাকার বেশি আকারের জাতীয় বাজেট নিয়েও সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন মান্না।
তিনি দাবি করেন, বাজেটে নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতির কথা বলা হলেও সেগুলোর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সরকারের রাজস্ব আহরণ, ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং অর্থায়নের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি।
মান্নার ভাষ্য, বাজেটে অনেক আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের উৎস এবং কার্যকর পরিকল্পনা স্পষ্ট নয়। ফলে
জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হতে পারে।
অর্থনীতি ছাড়া রাজনীতি নয়
বক্তব্যের এক পর্যায়ে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি।
তিনি বলেন, অর্থনীতিকে গুরুত্ব না দিয়ে শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্য বা জনপ্রিয়তার রাজনীতি করে দীর্ঘমেয়াদে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
জনগণের প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করতে হলে বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসন প্রয়োজন।
মান্না মনে করেন, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান সংকট, বিনিয়োগ স্থবিরতা
এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় বর্তমানে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
রাজনৈতিক দলগুলো যদি জাতীয় স্বার্থে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত উভয়ই জনমতের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে।
উপসংহার
মাহমুদুর রহমান মান্নার বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
তিনি যেমন গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন, তেমনি বাজেট ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
এখন রাজনৈতিক দলগুলো কীভাবে এই সমালোচনার জবাব দেয় এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে কী পদক্ষেপ নেয়, সেটিই হবে আগামী দিনের বড় আলোচ্য বিষয়।
