সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ছড়িয়ে পড়া ভিডিও যাচাই করে তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি নয় বরং আসল বলে নিশ্চিত করেছে রিউমর স্ক্যানার।
জামায়াত এমপির ভাইরাল ভিডিওটি এআই নয়, আসল: রিউমর স্ক্যানার
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ জুলাই, ২০২৬
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের এক নারীর সঙ্গে ধারণকৃত ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ইন্টারনেটে ভাসতে থাকা উক্ত ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) প্রযুক্তির সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে বলে দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও, স্বাধীন তথ্যানুসন্ধানকারী প্রতিষ্ঠান ‘রিউমর স্ক্যানার’ জানিয়েছে ভিডিওটি প্রকৃতপক্ষে খাঁটি ও প্রকৃত ফুটেজ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিজস্ব ভেরিফায়েড সামাজিক মাধ্যম হ্যান্ডেলে প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে ফ্যাক্টচেকিং বা তথ্য যাচাইকারী সংস্থাটি।
ডিজিটাল কারসাজির তথ্য নাকচ করে যা বলল রিউমর স্ক্যানার
ভার্চুয়াল দুনিয়ায় এমপি গাজী নজরুলের ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই জামায়াত সমর্থক ও একাধিক আইডি থেকে এটিকে প্রযুক্তিগত উপায়ে উদ্ভাবিত বা ‘ডিপফেক’ বলে প্রচার শুরু করা হয়। তবে ছড়িয়ে পড়া দীর্ঘ ফুটেজটি খুঁটিনাটি ফ্রেম ধরে পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার জানায়, এতে কোনো ধরনের এআই কারসাজি বা এডিটিংয়ের অসংগতি পরিলক্ষিত হয়নি।
প্রতিষ্ঠানটির টেকনিক্যাল টিমের প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রচারিত অডিও ও দৃশ্যমানের সমন্বয়ে কোনো ধরনের যান্ত্রিক অমিল বা জোড়াতালির আলামত ধরা পড়েনি। কন্টেন্টটির প্রতিটি উপাদানের গুণগত মান পৃথকভাবে যাচাই-বাছাইয়ের পর এটি নিশ্চিত করা গেছে যে, ভিডিওটি শতভাগ আসল।
দলীয় অবস্থান ও ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’র ব্যাখ্যা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুটেজটির প্রাথমিক ধাক্কায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ঘটনার পরপরই জেলা জামায়াতের স্থানীয় যোগাযোগ মাধ্যম
এবং ক্রাইম বার্তার মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ফেক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সাজানো নাটক বা এআই নির্মিত বলে বয়ান জারিকরা হয়েছিল।
তবে অনুসন্ধানী সংস্থাগুলোর প্রযুক্তিগত রিপোর্টিংয়ে ভিডিওটির আসল রূপ উন্মোচিত হওয়ার পর অবস্থান পরিবর্তন করে দলীয় নেতৃত্ব।
জেলা জামায়াত সূত্র ও পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় শীর্ষ পর্যায়ের তরফ থেকে বলা হয়,
ভিডিওতে দৃশ্যমান তরুণীটি এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বৈধ ও বিবাহিত দ্বিতীয় স্ত্রী।
দলটির পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, পারিবারিক সম্মতিক্রমে এবং প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতেই তিনি এই বিয়ে সম্পন্ন করেছেন। তবে কোন কাবীননামা দেখায়নি।
ফলে ব্যক্তিগত বিষয়টিকে রাজনৈতিক জলঘোলা করার সুযোগ নেই বলে দাবি জামায়াত নেতৃত্বের।
ঘটনার নেপথ্যে ভিন্ন বিতর্ক ও জনমনে চর্চা
যদিও এমপি ও দলটির তরফ থেকে পারিবারিক সম্পর্কের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে,
কিন্তু ভিডিওটির ধারণ প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপট এবং তা অনলাইনে ফাঁসের বিষয় নিয়ে নতুন করে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
একটি সিসিটিভি ক্যামেরার টাইমস্ট্যাম্পযুক্ত এই ফুটেজটি কখন ও কোথায় তোলা হয়েছিল,
কিংবা কীভাবে এটি সোশ্যাল নেটওয়ার্কে উন্মুক্ত করা হলো—সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য এখন পর্যন্ত মিলেনি।
সম্পূর্ণ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও নাগরিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে
এবং রিউমর স্ক্যানারের তদন্তের পর প্রযুক্তি কেন্দ্রিক বিতর্ক অন্যদিকে মোড় নিয়েছে।
