রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে নিষ্পাপ শিশুসন্তানকে কোলে নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন ইডেন নেত্রী সানজিদা।
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকারের সুরক্ষাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফের এক অমানবিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দেওয়া হয়েছে। ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক নেত্রী সানজিদাকে তার কোলের সেই নিষ্পাপ শিশুসন্তানসহ নিজ বাসা থেকে দ্বিতীয়বারের মতো জোরপূর্বক গ্রেপ্তার করার ঘটনা ঘটেছে। এই দৃশ্য ও সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর দেশজুড়ে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন মানবাধিকার সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের ঝড় উঠেছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও দমনপীড়নের মাত্রা সমস্ত সীমা ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
ঘটনাপ্রবাহ: যেভাবে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হলো
প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি বিশেষ দল হঠাৎ করে রাজধানীর নির্দিষ্ট একটি আবাসিক এলাকায় সানজিদার নিজ বাসায় অভিযান চালায়। এ সময় তার কোলের ছোট্ট শিশুসন্তানটি মায়ের বুক আগলে কান্নাকাটি করতে থাকে। কিন্তু বিন্দুমাত্র মানবিক বিবেচনা না করে, সেই অবুঝ শিশুকে রেহাই না দিয়ে সানজিদাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই নিয়ে তাকে দ্বিতীয় দফায় নিজ গৃহবন্দীত্ব থেকে টেনেহিঁচড়ে গ্রেপ্তার করা হলো। এর আগেও তাকে নানা আইনি মারপ্যাঁচে ফেলে এবং হয়রানিমূলক মামলায় জড়িয়ে কারাবাসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। জামিনে মুক্ত হয়ে কিছুটা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করলেও বারবার তাকে এই ধরনের দমনপীড়নের শিকার হতে হচ্ছে।
মানবাধিকার ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড়
ইডেন কলেজ নেত্রী সানজিদাকে তার কোলের শিশুকে সঙ্গে নিয়ে পুনরায় গ্রেপ্তারের এই অমানবিক ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সহকর্মী এবং মানবাধিকার কর্মীরা এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, রাজনৈতিক রেষারেষি বা প্রতিহিংসার কোপানল থেকে এখন আর দুগ্ধপোষ্য শিশুরা পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্টদের সমালোচনা করে অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, আইনি প্রক্রিয়ার নামে মানবাধিকারের এই নগ্ন লঙ্ঘন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একজন মায়ের কোল থেকে তার সন্তানকে দূরে সরিয়ে দেওয়া এবং সম্পূর্ণ অনৈতিক পন্থায় বারবার একই ব্যক্তিকে টার্গেট করার এই সংস্কৃতি অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নতুন নজির ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক বিরোধ মেটানোর ক্ষেত্রে আইনের সুশাসনের পরিবর্তে একধরনের প্রতিশোধপরায়ণ মনোভাব কাজ করছে।
অতীতে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অপরাধে কেবল সানজিদাই নন, বহু নারী নেত্রীকেও নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে।
অথচ একটি সভ্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণিত অভিযোগ ছাড়া
তাকে বারবার এভাবে হয়রানি করা আইনের শাসনের মৌলিক নীতির সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
বিশেষ করে, মায়ের সঙ্গে একটি নিষ্পাপ শিশুকে থানায় ও কারাগারে টানাহেঁচড়া করার দৃশ্য সমাজ ব্যবস্থার পতনকেই ইঙ্গিত করে।
এ ধরনের ঘটনা শুধু একটি পরিবারকে ধ্বংস করছে না, বরং সমগ্র জাতির বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি ও হয়রানি বন্ধের দাবি
ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সানজিদার পরিবার ও তার সহযোদ্ধারা অবিলম্বে তার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন। তারা বলছেন,
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশে একজন নারী এবং তার অবুঝ সন্তানকে এভাবে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা অমানবিক অপরাধের শামিল।
অবিলম্বে এই অনৈতিক গ্রেপ্তার ও জুলুম-নিপীড়নের অবসান ঘটিয়ে তাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
অন্যথায় দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে সঙ্গেনিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
