গোপালগঞ্জে ১৫ আগস্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫ প্লাটুন বিজিবিসহ যৌথ বাহিনী মোতায়েন। জানুন বিস্তারিত আজকের বিশেষ প্রতিবেদনে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোপালগঞ্জ
প্রকাশিত: ৫ আগস্ট, ২০২৬
১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ জেলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে ৫ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত এই বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
গত সোমবার (৪ আগস্ট) বিকেলে জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান গণমাধ্যমকে এই বিজিবি মোতায়েনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। এরপর থেকেই মূলত শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে যৌথ বাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বহুমুখী তৎপরতা
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুধু বিজিবি নয়, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি অন্যান্য বিশেষায়িত বাহিনীকেও মাঠে নামানো হয়েছে। জেলা পুলিশের পাশাপাশি ৮ প্লাটুন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং ৫ প্লাটুন রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) সদস্যরা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জোনে নিরাপত্তা জোরদার করেছেন।
গত মঙ্গলবার বিকেল থেকে শহরের প্রধান সড়ক, গুরুত্বপূর্ণ মোড়, সরকারি ও আধাসরকারি স্থাপনা এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানগুলোতে বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ টহল শুরু হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশির জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এছাড়া পুরো জেলায় গোয়েন্দা নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে কোনো দুষ্কৃতকারী বা স্বার্থান্বেষী মহল শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে না পারে।
প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্য
নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে বলতে গিয়ে গোপালগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ সংবাদমাধ্যমকে জানান, গোপালগঞ্জ ভূ-রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দিক থেকে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা। তাই সম্ভাব্য যেকোনো ধরনের ঝুঁকি বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমরা আগেভাগেই সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন একযোগে কাজ করছে।
যদি কেউ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর ন্যূনতম অপচেষ্টাও চালায়, তবে তা অত্যন্ত কঠোর হাতে দমন করা হবে।
জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান জানান, ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালনের অংশ হিসেবে জেলাজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
এসব কর্মসূচি যাতে সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের আতঙ্ক ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করতে পারে, সেজন্যই এই বাড়তি নিরাপত্তা বলয় তৈরিকরা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আগামী ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বিজিবি তাদের নিয়মিত টহল ও নজরদারি কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।
সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ও জনজীবন
প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানের ফলে গোপালগঞ্জ শহরজুড়ে এক ধরনের থমথমে অথচ সতর্ক ভাব বিরাজ করছে। সাধারণ সাধারণ মানুষ ও
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সঠিক সময়ে এই ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করায় বড় ধরনের কোনো সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা এড়ানো সম্ভব হবে।
তবে জনবহুল এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মাঝে একধরনের স্বস্তি এবং সচেতনতা তৈরি করেছে।
