৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে গাজীপুর ও সাভারে পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ। সড়ক অবরোধ সরাতে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ।
অনলাইন ডেস্ক
দেশের প্রধান দুই শিল্পাঞ্চল গাজীপুর ও সাভারে পোশাক খাতের শ্রমিকদের আন্দোলন চতুর্থ দিনের মতো চরম আকার ধারণ করেছে। মাসিক ন্যূনতম বেতন ত্রিশ হাজার টাকায় উন্নীত করার দাবিতে বুধবার সকাল থেকে হাজার হাজার শ্রমিক রাজপথে নেমে আসেন। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অবরোধ করে বিক্ষোভ করার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও যৌথ বাহিনী দফায় দফায় টিয়ার শেল এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
গাছা ও সাইনবোর্ড এলাকায় সকালের উত্তাল পরিস্থিতি
বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিক থেকে গাজীপুরের গাছা থানার সাইনবোর্ড সংলগ্ন এলাকায় শ্রমিকেরা জড়ো হতে শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে তাঁরা প্রধান ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরুদ্ধ করে ফেললে সমস্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ ও শিল্প পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আন্দোলনকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। পরিস্থিতি মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেডের বিকট শব্দে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
“শ্রমিক ভাইদের দাবি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে রাজপথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে সবাইকে ধৈর্য ধরে কাজে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।”
শিল্প পুলিশের বক্তব্য এবং বিভিন্ন এলাকার আপডেট
গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন সাংবাদিকদের জানান যে সকালের দিকে পরিস্থিতি অনেকাংশেই স্বাভাবিক ছিল। তবে হঠাৎ করেই দুই থেকে চার হাজার বিক্ষুব্ধ শ্রমিক সড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করেন। পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। এছাড়া জয়দেবপুর, সালনা, রাজেন্দ্রপুর, শফিপুর এবং পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার পরিবেশ বর্তমানে বেশ শান্ত রয়েছে। তবে কাশিমপুর অঞ্চলে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সাভারের হেমায়েতপুরে সড়ক অবরোধ ও লাঠিচার্জ
গাজীপুরের পাশাপাশি সাভারের হেমায়েতপুর অঞ্চলেও সকাল থেকে তীব্র শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষুব্ধ কর্মীরা প্রধান সড়ক আটকে বিক্ষোভ করায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়
এবং সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তিতে পড়েন। পুলিশ প্রথমে বুঝিয়ে স সরানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়ে মৃদু লাঠিচার্জ শুরু করে।
এতে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘাতের সৃষ্টি হয়।
পরিবেশ শান্ত রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সেখানেও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
নারায়ণগঞ্জের চিত্র এবং বিজিএমইএ সভাপতির আহ্বান
এদিকে পার্শ্ববর্তী জেলা নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কারখানার সামনেও শ্রমিকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।
তবে সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
কোনো ধরনের বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে বিজিএমইএ সভাপতি শ্রমিকদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে সরকার ইতোমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
