শহিদুল আলমের গাজা যাত্রা নিয়ে বাংলাদেশের মিডিয়ার মাতামাতি শেষ পর্যন্ত প্রমাণ করল একটি সাজানো নাটক। এই নাটক প্রমাণ করেছে তার বিদেশি ফান্ডিং, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও ইহুদি লবির নেটওয়ার্কের গভীর সম্পৃক্ততা।
গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশের মূলধারার মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক বিষয়েই সরগরম ছিল— আলোকচিত্রী ও কথিত মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম নাকি গাজার অবরুদ্ধ সমুদ্রসীমা ভেদ করে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। টকশো, রিপোর্ট, সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট— সবখানেই তাকে উপস্থাপন করা হচ্ছিল এক “নতুন নায়ক” হিসেবে। কিন্তু হঠাৎ করেই শহিদুল নিজেই লাইভে এসে বললেন— তিনি আদৌ সেই বহরে ছিলেন না, বরং অন্য বছরের একটি অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অর্থাৎ পুরো জাতিকে দেখানো হলো এক সাজানো নাটক।
গাজা নাটক ও জাতিকে বোকা বানানো
শহিদুল আলমকে কয়েকদিন আগে গাজা যাত্রার “নায়ক” হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছিল। কিন্তু পরে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন, তিনি বহরের অংশ ছিলেন না। এই ভন্ডামী প্রমাণ করেছে, তাঁর কাজ আসলে ইমেজ ওয়াশিংয়ের কৌশল মাত্র।
শহিদুল আলম নতুন নন। আলোচনায় থাকার জন্য বিতর্ক সৃষ্টিই তার প্রধান অস্ত্র।
বিতর্কিত অতীত: আন্দোলনের নামে অস্থিরতা
২০১৮ সালের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় শহিদুল আলম আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় গিয়ে সরকারবিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন।
তিনি দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রকারীদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলনকে বিকৃত করেন। তাঁর এসব কর্মকাণ্ড দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
নিজেকে তিনি সবসময় দেশের বিবেক হিসেবে তুলে ধরতে চান, অথচ বাস্তবে বারবার প্রমাণিত হয়েছে— তিনি পশ্চিমা স্বার্থের এজেন্ডার অংশ।
বিদেশি ফান্ডিংয়ের নেটওয়ার্ক
শহিদুল আলমের প্রতিষ্ঠান ড্রিক ও পাঠশালা বারবার বিদেশি ফান্ডিং নিয়েছে। ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন, নরওয়েজিয়ান দাতা সংস্থা, এমনকি কিছু পশ্চিমা দূতাবাস থেকে নিয়মিত অর্থপ্রবাহ এসেছে—যার বড় অংশ ব্যবহৃত হয়েছে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে।
এসব ফান্ডিং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তরুণদের বিভ্রান্ত করে সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পশ্চিমা ও ইহুদি লবির মদদ
শহিদুল আলম জর্জ সোরস ও আলেকজান্ডার সোরসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখেছেন। ওপেন সোসাইটি নেটওয়ার্ক বিশ্বের বহু দেশে সরকার পতন ও বিভাজনের জন্য কুখ্যাত।
শহিদুলকে এই নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের “মুখ” বানাতে চেয়েছে, যাতে তিনি মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে দেশের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে পারেন।
এই সংগঠনটি বহু দেশেই রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সরকার পতন এবং জাতীয়তাবাদী শক্তি ভাঙনের জন্য সমালোচিত।
শহিদুল আলমের গাজা যাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে অনেকে।
সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দু
শহিদুল আলমের কার্যক্রম সবসময় আওয়ামী লীগ সরকার ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। একদিকে তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অপব্যাখ্যা করেছেন, অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত ঘরানার প্রচারণার সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, শহিদুল মূলত এক “সাংস্কৃতিক এজেন্ট”—যিনি ভেতরে ভেতরে দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
যিনি নিজ দেশের সেনাবাহিনী ও সরকারকে প্রতিনিয়ত হেয় করেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে অপমান করেন, তার ফিলিস্তিন-প্রেম কতটা আন্তরিক?
ইমেজ-ওয়াশিং মিশন
অনেকের মতে, এই অভিযাত্রা ছিল নিছক “ইমেজ-ওয়াশিং মিশন”— যেখানে তিনি নিজেকে আবারও বিরোধী রাজনীতির নায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছিলেন।
“মানবাধিকার”, “স্বাধীন সাংবাদিকতা” বা “ওপেন সোসাইটি”— এই শব্দগুলো কানে শুনতে সুন্দর হলেও এর আড়ালে লুকিয়ে থাকে একটি গভীর এজেন্ডা।
বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বের জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দুর্বল করা, ইসলামি সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করা এবং পশ্চিমা পুঁজিপতিদের জন্য বাজার উন্মুক্ত করা।
শহিদুল আলম এই নেটওয়ার্কেরই অংশ, যিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরেও একই কৌশল ব্যবহার করছেন।
বাংলাদেশের মানুষ আজ ক্রমেই বুঝতে পারছে— শহিদুল আলমের প্রতিটি পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে বিদেশি অর্থায়ন ও প্রভাব।
তিনি যতই ফিলিস্তিনের নামে নাটক সাজান, আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশের ভেতরে বিভ্রান্তি তৈরি করা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে দুর্বল করা।
শহিদুলের গাজা নাটক আবারও প্রমাণ করল— যাদের হাতে মিডিয়া আর আন্তর্জাতিক তহবিল, তারাই সহজে নিজেদের “নায়ক” বানাতে পারে।
নাটকের আড়ালে আসল চক্রান্ত
শহিদুল আলমের গাজা নাটক প্রমাণ করেছে, বিদেশি এজেন্ডা বাস্তবায়নই তাঁর মূল লক্ষ্য। মানবাধিকার, গণতন্ত্র কিংবা ফিলিস্তিন—এসব কেবল মুখোশ। আসল উদ্দেশ্য হলো দেশবিরোধী শক্তিকে শক্তিশালী করা।
বাংলার মানুষ এখন ধীরে ধীরে এই ভন্ডামী বুঝতে শিখেছে। সত্যকে আড়াল করা গেলেও বেশিদিন টিকিয়ে রাখা যায় না। শহিদুলের মতো এজেন্টদের চক্রান্ত শেষ পর্যন্ত জনগণের ঐক্য ও দেশপ্রেমের শক্তির কাছে ব্যর্থ হবে।
কিন্তু বাংলাদেশের সচেতন জনগণ এখন আর এসব ভাঁওতাবাজিতে বিভ্রান্ত হচ্ছে না।
তারা বুঝে গেছে, প্রকৃত মানবাধিকার রক্ষার নামে আসলে জাতীয়তাবাদ ধ্বংসের খেলা চলছে।
