বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের আস্থা ভেঙে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা | ১ নভেম্বর ২০২৫
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের ওপর আস্থা রেখেছিল যে সরকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ফিরিয়ে আনবে, কিন্তু তারা সেই আস্থা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
‘সরকার আস্থার মর্যাদা দেয়নি’
শুক্রবার (১ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জেএসডি’র ৫৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল।
অনুষ্ঠানের বিষয় ছিল — “ফ্যাসিবাদবিরোধী অংশীদারির গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা।”
ফখরুল বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের ওপর যে আস্থা রেখেছিল, সরকারের উচিত ছিল সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করা।
কিন্তু তা হয়নি। সরকারের একটি অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
‘জুলাই সনদ ও গণভোট ছিল অযৌক্তিক’
বিএনপি মহাসচিব ‘জুলাই সনদ’-এর প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ঐকমত্য কমিশন নির্বাচনের আগেই একটি গণভোট করার প্রস্তাব দিয়েছে—যা তিনি “অযৌক্তিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত” হিসেবে অভিহিত করেন।
তার ভাষায়, “জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট করার কোনো সাংবিধানিক সুযোগ নেই। এটি কেবল বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।”
তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দল প্রায় এক বছর ধরে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়েছিল, কিন্তু সরকার সেই চুক্তির প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি।
‘সংকট সৃষ্টি করেছে বর্তমান সরকারই’
ফখরুল অভিযোগ করেন, বর্তমান সংকটের মূল কারণ হলো সরকার নিজেই।
তিনি বলেন, “দেশের মানুষ ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন চায়। কিন্তু একটি মহল নির্বাচনের পথে বাধা সৃষ্টি করছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, বিএনপি সংস্কার চায় না—এমন প্রচারণা চলছে জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য।
‘মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের প্রতিও আহ্বান’
জামায়াতের দিকে ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন,
“যারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল, তাদের প্রতিও আহ্বান জানাচ্ছি—দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে সবাইকে এক হতে হবে।”
ফখরুলের দাবি, এখানে রাজনৈতিক দল নয়, বরং ঐকমত্য কমিশনই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ‘অন্তর্বর্তী সরকারের’ ব্যর্থতা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন,
বিএনপি মহাসচিবের এই বক্তব্য আসলে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার কৌশল।
কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকেও ইউনূস সরকারের ‘নির্বাচন বিলম্ব’ ও ‘গণভোট প্রস্তাব’ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
একজন বিশ্লেষক বলেন,
“এই বক্তব্য কেবল রাজনৈতিক অভিযোগ নয়, বরং এটি ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশলের অংশ।”
