ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে আজ বড় পতন হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯৬ কোম্পানির মধ্যে মাত্র ৭০টির দর বেড়েছে, ২৬৩টির দর কমেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা।
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মঙ্গলবারের লেনদেনের দিনে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। দিনের শুরু থেকেই বিক্রয়চাপ বাড়তে থাকে, ফলে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারদর কমে যায়। বাজারে মন্দাভাব ও বিনিয়োগকারীদের সতর্কতার কারণে সূচকও নেমে আসে ৩২ পয়েন্ট।
লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯৬টি সিকিউরিটিজের মধ্যে মাত্র ৭০টির দর বেড়েছে, বিপরীতে ২৬৩টির দর কমেছে এবং ৬৩টির দর অপরিবর্তিত ছিল।
বাজারে এই ব্যাপক দরপতনের প্রভাবে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। দিন শেষে ডিএসইর মোট বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে
৬,৯০,৫৯০ কোটি ৩০ লাখ ৫৮ হাজার ১৬৯ টাকা। এদিন মোট ১২ কোটি ৫৯ লাখ ৬৪ হাজার ১৯৯টি শেয়ার
ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়, যার আর্থিক পরিমাণ ৪৫৩ কোটি ৫৭ লাখ ৭৪ হাজার ৬৩৬ টাকা।
সূচকের দিক থেকে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৩২.১৮ পয়েন্ট কমে ৫,০২৮.৮৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া ডিএস-৩০ সূচক কমেছে ১১.২৫ পয়েন্টে নেমে ১,৯৪৯.৭০ পয়েন্টে, এবং শরীয়াহ সূচক (ডিএসইএস) কমেছে ৮.৯৫ পয়েন্ট, যা দাঁড়িয়েছে ১,০৫৭.৫০ পয়েন্টে।
লেনদেনে শীর্ষ অবস্থানে ছিল সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, মনো স্পুল, ওরিয়ন ইনফিউশন, মুন্নু ফেব্রিক্স,
সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সিভিও পিআরএল, খান ব্রাদার্স পিপি এবং কে অ্যান্ড কিউ।
দরবৃদ্ধিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো — মুন্নু সিরামিক, মুন্নু ফেব্রিক্স, মুন্নু অ্যাগ্রো, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, কে অ্যান্ড কিউ,
কাসেম ইন্ডাস্ট্রিজ, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড এবং সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড।
অন্যদিকে দরপতনে শীর্ষে রয়েছে ফার কেমিক্যাল, ওরিয়ন ইনফিউশন, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফ্যামিলি টেক্স, বিআইএফসি,
জেমিনী সী ফুড, সোনালী পেপার, নূরানী ডাইং, খান ব্রাদার্স পিপি এবং প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স।
ক্যাটাগরিভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘এ’ ক্যাটাগরির ২৭টির দাম বেড়েছে এবং ১৬৫টির দাম কমেছে।
‘বি’ ক্যাটাগরিতে বেড়েছে ১১টি, কমেছে ৫৯টি; আর ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে বেড়েছে ১৮টি ও কমেছে ৫২টি শেয়ারের দাম।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, চলমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ ও উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে নড়বড়ে করে দিয়েছে।
তাদের পরামর্শ, স্বল্পমেয়াদি জল্পনা-কল্পনার বদলে মৌলভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে মনোযোগী হওয়া উচিত।
