ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ মিলল—দিল্লির রেড ফোর্ট বিস্ফোরণের মূল চালক ছিলেন ড. উমর উন নবি। ফরিদাবাদে সক্রিয় ‘হোয়াইট-কলার’ সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে তার ভূমিকা নিশ্চিত।
প্রতিবেদক: বিশেষ প্রতিনিধি
তারিখ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ |
দিল্লির ঐতিহাসিক লাল কেল্লার কাছে গত সোমবার ঘটে যাওয়া ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের তদন্তে বড় অগ্রগতি এসেছে। ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে, বিস্ফোরণে নিহত ব্যক্তিই ছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামার বাসিন্দা এবং পেশায় চিকিৎসক ড. উমর উন নবি (৩৫)। তিনি ফরিদাবাদের আল-ফালাহ ইউনিভার্সিটির প্রভাষক এবং একটি ‘হোয়াইট-কলার টেরর নেটওয়ার্ক’-এর সক্রিয় সদস্য ছিলেন।
ডিএনএ রিপোর্ট যেভাবে নিশ্চিত হলো
বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় একাধিক দেহাংশ। এর মধ্যে একটি পোড়া পা গাড়ির স্টিয়ারিং ও অ্যাকসিলারেটরের ফাঁকে আটকে ছিল। ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাব (FSL) নমুনা সংগ্রহ করে নবি’র মায়ের ডিএনএ–এর সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে ম্যাচ পাওয়া যায়। তার ভাইয়ের স্যাম্পলেও একই ফলাফল আসে।
পুলিশ জানায়— “বিস্ফোরণের সময় ড. নবি গাড়ির ভেতরেই ছিলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে যান। ডিএনএ ম্যাচ হওয়ায় সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।”
বিস্ফোরণের দিন কী ঘটেছিল?
সোমবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় সাদা রঙের হিউন্ডাই আই২০ গাড়িটি রেড ফোর্টের দিকে ধীরগতিতে এগোচ্ছিল। মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ বিস্ফোরণে আশপাশ কেঁপে ওঠে। এতে ১২ জন নিহত এবং ৩৫ জনের বেশি আহত হন।
সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যায়—
- দুপুর ৩টার দিকে নবি একটি মসজিদের পাশে গাড়িটি পার্ক করেন
- পরে ধীরে ধীরে রেড কেল্লার দিকে চালান
- বিস্ফোরণের আগে গাড়ি থেকে নামতে পারেননি
পুলিশের ধারণা, বিস্ফোরক আগে থেকেই গাড়িতে স্থাপন করা ছিল, এবং সময়মতো ট্রিগার করা হয়।
‘হোয়াইট-কলার টেরর নেটওয়ার্ক’—চিকিৎসকসহ ৮ জন গ্রেপ্তার
বিস্ফোরণের কয়েক ঘণ্টা আগেই ফরিদাবাদের একটি সন্ত্রাসী সেল ভেঙে দেয় পুলিশ। সেখানে পাওয়া যায়—
- অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট
- সার্কিট-বোর্ড IED
- টেলিগ্রাম ভিত্তিক যোগাযোগ লগ
গ্রেপ্তার ৮ জনের মধ্যে ৩ জনই চিকিৎসক—যা গোয়েন্দাদের আরও বিস্মিত করেছে।
নবির আরেকটি গাড়ি—লাল ফোর্ড ইকোস্পোর্ট—থেকে বোমা তৈরির উপাদান উদ্ধার করা হয়।
আন্তর্জাতিক যোগাযোগ—তুরস্কে প্রশিক্ষণ?
তদন্তে উঠে এসেছে নবি ও তার সহযোগীরা তুরস্ক সফরের পর টেলিগ্রামের মাধ্যমে জইশ-ই-মোহাম্মদ ও আনসার গজওয়াত-উল-হিন্দের হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।
তাদের লক্ষ্য ছিল—
- বড় কোনও জাতীয় দিবসকে টার্গেট করা
- রেড ফোর্টে ভিড়ের মধ্যে সর্বোচ্চ হতাহতের উদ্দেশ্যে হামলা
তদন্তকারীরা বলছেন—
“পুলিশি অভিযানের কারণে তারা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে আগেই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।”
প্রধানমন্ত্রী মোদির প্রতিক্রিয়া
মঙ্গলবার রাতে এলএনজেপি হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন—
“ভারত কোনো সন্ত্রাসী হামলাকে ক্ষমা করবে না। যারা এর মদদ দিয়েছে, তাদের বিচার হবেই।”
কেন্দ্রীয় সরকার ঘটনার ওপর ‘সর্বোচ্চ স্তরের তদন্ত’ নির্দেশ দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘটনাকে “স্পষ্ট সন্ত্রাসী হামলা” বলে অভিহিত করে ভারতকে তথ্য-প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন।
