ইমরান খানের হত্যার খবরে পাকিস্তানে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আদিয়ালা কারাগারের সামনে পিটিআই সমর্থকদের ভিড়, সেনাবাহিনীর জরুরি পদক্ষেপে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল।
ইসলামাবাদ, পাকিস্তান — পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খানকে আদিয়ালা কারাগারে হত্যা করা হয়েছে— এমন খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে উত্তেজনা ও অস্থিরতা বাড়তে শুরু করেছে। খবর ছড়ানোর পরপরই হাজার হাজার পিটিআই সমর্থক রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের সামনে জড়ো হতে থাকেন। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায়, উচ্চ পর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠক শেষে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন পাকিস্তান সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির।
গুজব ছড়ানোর পর মুহূর্তেই উত্তেজনায় ফেটে পড়ে দেশ
শনিবার সন্ধ্যার পর থেকেই বিভিন্ন টুইটার (X) অ্যাকাউন্ট ও ফেসবুক পেজে দাবি করা হয় যে ইমরান খানকে কারাগারে ‘গোপনে হত্যা করা হয়েছে’ এবং সরকার ঘটনাটি চাপা দিচ্ছে। এই ঘটনা আফগান টাইমস পত্রিকায় স্বীকার করে বলা হয়েছে, যে ইমরান খানকে জেলের ভিতরেই হত্যা করা হয়েছে।
যদিও সরকারি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এ দাবি ‘ভিত্তিহীন ও মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেছে, তবুও পিটিআই সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে।
অনেকেই লাইভ স্ট্রিম চালু করে আদিয়ালা কারাগারের সামনে সমবেত হতে শুরু করেন। পাঞ্জাবের বিভিন্ন জেলা—লাহোর, ফয়সালাবাদ, গুজরানওয়ালা থেকেও নেতাকর্মীরা রাওয়ালপিন্ডির দিকে রওনা হন।
আদিয়ালার সামনে পরিস্থিতি দগদগে, ভয়াবহ সংঘর্ষের আশঙ্কা
কারাগারের আশপাশে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা।
এরপর পুলিশ টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও বিক্ষোভকারীদের ঢেউ থামেনি।
কারাগারের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান—
“আমরা এমন পরিস্থিতি আগে দেখিনি। জনতা যত বাড়ছে, পরিস্থিতির ঝুঁকি তত বাড়ছে।
জরুরি নিরাপত্তা বৈঠক: সেনা মোতায়েনের নির্দেশ
বিক্ষোভের মাত্রা বাড়তে থাকায় গভীর রাতে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির, স্বরাষ্ট্রসচিব, আইএসআই প্রধান এবং পাঞ্জাব প্রশাসনের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন।
বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত হয়—
- গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সেনা মোতায়েন
- আদিয়ালা কারাগারের চারপাশে রেড জোন ঘোষণা
- পিটিআই নেতাদের চলাচলে নিয়ন্ত্রণ
- সোশ্যাল মিডিয়ায় কঠোর নজরদারি
পাঞ্জাব সরকারের এক কর্মকর্তা জানান—
“পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনা মোতায়েনের বিকল্প ছিল না।”
সরকারের দাবি—“ইমরান নিরাপদ, গুজব ছড়ানো হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে”
পাকিস্তান সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতিতে জানায়—
“ইমরান খান সুস্থ আছেন। তাকে নিয়ে ছড়ানো সব খবর মিথ্যা ও রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার।”
তারা আরও দাবি করে—
- পিটিআইয়ের ভেতরের একটি গ্রুপ ‘ইমরানকে শহীদ’ বানানোর উদ্দেশ্যে গুজব ছড়িয়েছে
- আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বিভ্রান্ত করার জন্য এই প্রচার
- গুজব ছড়ানো অ্যাকাউন্টগুলোকে শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
তবে পিটিআই নেতারা পাল্টা অভিযোগ করে বলেন—
“সরকার প্রমাণ দেখাক যে ইমরান জীবিত আছেন। তারা বারবার মিথ্যা বলছে।”
কেন এই গুজব এত দ্রুত ভয়াবহ রূপ নিল?
বিশ্লেষকদের মতে এর তিনটি কারণ রয়েছে—
১. জনআস্থা সংকট
ইমরান কারাবন্দী হওয়ার পর বহুবার তার ওপর হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে সাধারণ সমর্থকরা সরকারকে বিশ্বাস করেন না।
২. রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকা
আদালত ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে পিটিআইয়ের সংঘাত যেভাবে তীব্র হচ্ছে, যে কোনো গুজবই দ্রুত বিস্ফোরক হয়ে উঠছে।
৩. সোশ্যাল মিডিয়া বিভ্রান্তি ও ব্ল্যাকআউট
কিছু এলাকায় ইন্টারনেট স্লো হওয়ায় গুজব আরও তীব্র গতিতে ছড়িয়েছে।
সর্বশেষ
ইমরান খানের বিরুদ্ধে ছড়ানো হত্যার গুজব পাকিস্তানের রাজনৈতিক উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় ঠেলে দিয়েছে।
সেনাবাহিনী মোতায়েন থেকে জনতার দাবানল—সবকিছুই দেশকে এক নতুন অজানার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে সরকারের স্বচ্ছ যোগাযোগ এবং ইমরান খানের নিরাপত্তার বাস্তব অবস্থার ওপর।
