লস্কর–ই–তাইয়েবার ১১ সদস্যের দল বাংলাদেশে ঢোকার আশঙ্কা বাড়ছে। সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার হওয়া কি বড় হুমকির ইঙ্গিত?
সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার গোয়েন্দা মহলে আলোচিত একটি বিষয় হলো—লস্কর–ই–তাইয়েবা (LeT)-এর ১১ সদস্যের একটি দল আগামী সপ্তাহের মধ্যে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে—এমন গোয়েন্দা সতর্কবার্তা। এই খবর প্রকাশের পরই সীমান্তবর্তী অঞ্চলে, বিশেষ করে ভারতের সিলিগুড়ি করিডোরের নিকটবর্তী লালমনিরহাট বিমানঘাঁটিতে হঠাৎ অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার ও ফ্লাডলাইট স্থাপনের ঘটনা নতুন প্রশ্ন তুলছে।
বাংলাদেশ কি সত্যিই পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনের “নিরাপদ আশ্রয়স্থল” হয়ে উঠছে? নাকি এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক খেলার অংশ?


লস্কর-ই-তৈবার সম্ভাব্য অনুপ্রবেশ: কী বলছে গোয়েন্দা সূত্র?
ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক রিপোর্টে বলা হয়েছে:
- লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মোহাম্মদের মতো পাকিস্তান-সমর্থিত সংগঠনগুলো দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন রুট খুঁজছে।
- মিয়ানমার, ত্রিপুরা, সিলেট ও কক্সবাজার সীমান্ত এ ধরনের চোরাপথের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
- সাম্প্রতিক দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার বদলে যাওয়া জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে নতুন সুযোগ দিয়েছে।
এর আগে FATF, Interpol ও ভারতীয় NIA এর রিপোর্টে বাংলাদেশে ফের জঙ্গিগোষ্ঠীর ঘাঁটি গড়ে ওঠার সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল।
লালমনিরহাট বিমানঘাঁটিতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা—কেন এখন?
সিলিগুড়ি করিডোর ভারতের “চিকেন নেক”—দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে যাতায়াতের একমাত্র শিরা।
এই কারণে:
- বাংলাদেশ সীমান্তে যে কোনো চরমপন্থী তৎপরতা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি,
- ভারত সন্দেহ করছে পাকিস্তান-সমর্থিত গোষ্ঠী বাংলাদেশকে “ট্রানজিট করিডোর” হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে।
ফলে লালমনিরহাট বিমানঘাঁটিতে:
- নতুন ফ্লাডলাইট,
- অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েন,
- রাডার পর্যবেক্ষণ জোরদার,
- রাতের টহল বৃদ্ধি
এসব দেখা যাচ্ছে।
বাংলাদেশ কি জঙ্গিগোষ্ঠীর নতুন খেলার মাঠ?
সমালোচকদের দাবি—
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্বল সীমান্ত নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের অমনোযোগের কারণে বাংলাদেশকে এখন লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
কারণগুলো:
- রাষ্ট্রযন্ত্রের অভ্যন্তরীণ বিভক্তি
- জঙ্গিবাদ দমনে ধারাবাহিকতার অভাব
- আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ঠাণ্ডা প্রতিযোগিতা
- পাকিস্তানের পুরোনো নেটওয়ার্কের পুনরুত্থানের চেষ্টা
২০১৬ সালের হোলি আর্টিজান হামলার পর বাংলাদেশের জঙ্গিবিরোধী সাফল্যকে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসা করা হয়েছিল।
কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোর অস্থিরতা নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ কি ইস্ট পাকিস্তান ২.০-এর পথে?
আলোচনা আছে যে বাংলাদেশকে পরিকল্পিতভাবে:
- দুর্বল করা,
- বিভক্ত করা,
- আঞ্চলিক প্রাক্সি যুদ্ধের ময়দান বানানো,
এই তিনটি উদ্দেশ্যে পাকিস্তান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে: “একটি দুর্বল, অনিরাপদ এবং অস্থিতিশীল বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।”
কর্তৃপক্ষের ভূমিকা: অস্বীকার নাকি প্রস্তুতি?
রাষ্ট্রযন্ত্র এখনো কোনো বড় সতর্কতা ঘোষণা করেনি।
তবে সীমান্ত র্যাব-পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে অব্যক্তভাবে।
সমালোচকদের মতে:
- সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে জনসাধারণকে অবহিত করছে না,
- গোয়েন্দা সমন্বয় আগের তুলনায় কম,
- অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েন নিরাপত্তা আলোচনাকে শিথিল করেছে।
বাংলাদেশ কি নতুন জঙ্গিঘাঁটি হওয়ার পথে?
এখনই এটি চূড়ান্ত সত্য বলা যাবে না। তবে—
- গোয়েন্দা সতর্কবার্তা,
- সীমান্তে অস্বাভাবিক নিরাপত্তা জোরদার,
- পাকিস্তান-সমর্থিত গোষ্ঠীর পুনরুত্থান চেষ্টার খবর,
এসব মিলে এ অঞ্চলের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
অতএব প্রশ্ন উঠে:
বাংলাদেশ কি সময় থাকতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা শক্তিশালী করবে,
নাকি আবারও জঙ্গিবাদের পুরোনো ছায়া ফিরে আসবে?
