যুক্তরাজ্যের এমপি টিউলিপ সিদ্দিককে অনুপস্থিতিতে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আদালত। গার্ডিয়ান একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অন্যায় বিচার বলছে।
বাংলাদেশের একটি আদালত যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির সাংসদ টিউলিপ সিদ্দিককে অনুপস্থিতিতে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। দুর্নীতির অভিযোগে দেওয়া এই রায়টিকে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান সরাসরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অন্যায় বিচার বলে আখ্যা দিয়েছে।
শেখ হাসিনার ভাগ্নি এবং হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেটের এমপি টিউলিপ সিদ্দিক এই রায়কে “ক্যাঙ্গারু কোর্টের হাস্যকর সিদ্ধান্ত” বলে মন্তব্য করেছেন।
গার্ডিয়ান: বিচার ছিল ‘কৃত্রিম ও পরিকল্পিত’
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তিনি নাকি বাংলাদেশে তার খালা শেখ হাসিনার ক্ষমতার সময় পূর্বাচলে অবৈধভাবে জমি অধিগ্রহণ করেছেন। তিন বিচারপতির একটি বেঞ্চ অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে।
তবে গার্ডিয়ান বলছে,
“এই বিচার প্রক্রিয়া শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ, অযৌক্তিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
প্রসিকিউশন মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত চেয়েছিল, কিন্তু আদালত দুই বছরের দণ্ড ঘোষণা করে।
টিউলিপ সিদ্দিক: অভিযোগের বিস্তারিত জানানো হয়নি
টিউলিপ সিদ্দিক গার্ডিয়ানকে বলেন,
“আমাকে কোনও অভিযোগের বিস্তারিত জানানো হয়নি। আইনজীবী নিয়োগের সুযোগও পাইনি। পুরো বিষয়টি বাংলাদেশের নোংরা রাজনীতির অংশ।”
তিনি আরও বলেন- “এটি যে রায় নয়, সেটি যারা আইনের মানদণ্ড বোঝেন তাঁরা বুঝবেন।”
গার্ডিয়ান জানায়, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে কোনো প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই, ফলে এ রায় কার্যকর করাও সম্ভব নয়।
ব্রিটিশ আইনজীবীদের চিঠি: মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন
আরেকটি প্রতিবেদনে গার্ডিয়ান জানায়, ব্রিটেনের শীর্ষস্থানীয় আইনজীবীদের একটি দল—
- সাবেক কনজারভেটিভ জাস্টিস সেক্রেটারি স্যার রবার্ট বাকল্যান্ড,
- সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ডমিনিক গ্রিভ—
বাংলাদেশ হাই কমিশনারকে চিঠি দিয়ে বিচারটিকে “অন্যায় এবং মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনকারী” বলে উল্লেখ করেছেন।
তাদের মতে,
- টিউলিপকে অভিযোগের স্পষ্ট বিবরণ দেওয়া হয়নি
- আইনগত প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেওয়া হয়নি
এটি আন্তর্জাতিক বিচার মানদণ্ডের পরিপন্থী।
শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা
দ্য গার্ডিয়ান আরও দাবি করে- শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এই রায় সেই রাজনৈতিক প্রতিশোধপরায়ণতার অংশ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ:
- ছাত্র আন্দোলনের সময় ক্র্যাকডাউনের অভিযোগে হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান
- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়
- টিউলিপ সিদ্দিকের মা শেখ রেহানাসহ পরিবারের আরও সদস্য এই মামলায় অভিযুক্ত
আওয়ামী লীগ এটিকে “রাজনৈতিক হাতিয়ার” বলছে।
যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
লেবার পার্টির একজন মুখপাত্র বলেন, “এ বিচার ন্যায়সংগত হয়নি বলে ব্রিটিশ আইনজীবীরা মত দিয়েছেন।”
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারও টিউলিপের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রায়টির আইনি প্রভাব না থাকলেও, এটি যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
রেফারেন্স (সংবাদ লিঙ্ক)
- https://www.theguardian.com/world/2025/nov/25/uk-lawyers-condemn-bangladesh-trial-london-labour-mp-tulip-siddiq
- https://www.theguardian.com/world/2025/dec/01/what-led-to-bangladesh-trial-of-former-uk-minister-tulip-siddiq
