যমুনামুখী বিক্ষোভে পুলিশের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জাসদ। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দমন-পীড়নকে রাষ্ট্রীয় অপব্যবহার বলছে দলটি।
বন্দর ইজারা নীতি বাতিলের দাবিতে আয়োজিত যমুনামুখী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে পুলিশের লাঠিপেটা, হামলা এবং নেতাকর্মীদের আহত করার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জাসদ। বৃহস্পতিবার দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনজুর আহমেদের পাঠানো এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়।
বিবৃতিতে জাসদের সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান বলেন, “শান্তিপূর্ণ আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ; সেখানে দমন-পীড়ন চালানো রাষ্ট্রের দায়িত্বের পরিপন্থী। রাষ্ট্র কাউকে দমনযন্ত্রে পরিণত হওয়া কাম্য নয়।”
গুরুতর আহত হয়েছেন বহু রাজনৈতিক নেতা
বিক্ষোভে পুলিশের হামলায় গুরুতর আহত হন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন, কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল আমিন, বাসদের মার্ক্সবাদী নেত্রী সীমা দত্ত, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল) কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানসহ আরও অনেক আন্দোলনকারী।
জাসদ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, জনগণের ন্যায্য আন্দোলনে পুলিশের এ ধরনের দমন-পীড়ন গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের উজ্জ্বল উদাহরণ এবং রাষ্ট্রক্ষমতার স্পষ্ট অপব্যবহার।
দলটির দাবি, যেসব পুলিশ সদস্য হামলার সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
বন্দর ইজারা—একটি কৌশলগত সম্পদ নিয়ে বিতর্ক
বাংলাদেশ জাসদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের কৌশলগত বন্দর ও লাভজনক সম্পদ বিদেশি স্বার্থে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বন্দর নীতি বাতিলের দাবিতে যমুনামুখী বিক্ষোভ ছিল সেই উদ্বেগের আওয়াজ তুলার একটি অংশ।
দলটির অভিযোগ, সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করতে চাইছে, যাতে জনগণের বিরোধী মত প্রকাশ দমিয়ে রাখা যায়।
জাসদ মনে করে, সরকারের এই আচরণ দেশের গণতান্ত্রিক পরিসরকে সংকুচিত করছে এবং ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংঘাতের জন্ম দিতে পারে।
তাদের দাবি—ইজারা নীতিতে স্বচ্ছতা নেই এবং জাতীয় সম্পদের উপর জনগণের মালিকানা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জাসদের দাবি ও আহ্বান
বাংলাদেশ জাসদ তাদের বিবৃতিতে আরও জানিয়েছে—
- শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলা বন্ধ করতে হবে
- দায়ী পুলিশ সদস্যদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে
- আহত নেতাকর্মীদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে
- আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোকে ঐক্য ও সাহস বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে
দলটির মতে, গণতান্ত্রিক দেশে রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে বিরোধী মত দমন করার প্রবণতা বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।
তারা উল্লেখ করে, বন্দর নীতির মতো জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে জনগণের মতামত গ্রহণ করা জরুরি
