কর্মজীবী নারীদের অবমাননার অভিযোগে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে ১৪০ বিশিষ্ট ব্যক্তির তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ।
কর্মজীবী নারীদের নিয়ে আপত্তিকর ও নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন দেশের ১৪০ জন বিশিষ্ট নাগরিক। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা এই বক্তব্যকে নারীর মর্যাদা, মানবাধিকার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।
অভিনেত্রী ও রাজনীতিবিদ রোকেয়া প্রাচী, শিক্ষক ও গবেষক ড. মাহবুব আলম প্রদীপ, লেখক ও শিক্ষক ড. শাখাওয়াৎ নয়ন এবং আইনজীবী ড. সিরাজুল হকের স্বাক্ষরে বিবৃতিটি প্রকাশিত হয়। এতে মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, আইনজীবী, সাংবাদিক, লেখক, সংস্কৃতিকর্মী, মানবাধিকার কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সংহতি প্রকাশ করেন।
কী নিয়ে এই ক্ষোভ
বিবৃতিতে বলা হয়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত জামায়াত আমিরের বক্তব্যে কর্মজীবী নারীদের ‘নৈতিক অবক্ষয়’ ও ‘পতিতাবৃত্তি’র সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
এই বক্তব্য গভীরভাবে নারীবিদ্বেষী, অবমাননাকর এবং সমাজে বিপজ্জনক বার্তা ছড়ায় বলে উল্লেখ করেন বিবৃতিদাতারা।
তাঁরা বলেন, এ ধরনের মন্তব্য কেবল নারীদের সম্মানহানি করে না, বরং সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য ও সহিংস মানসিকতাকে আরও উসকে দেয়।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী
বিবৃতিতে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয় যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে নারীর ভূমিকা কখনোই প্রান্তিক ছিল না। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নারীরা ছিলেন যোদ্ধা, সংগঠক, চিকিৎসাসেবক এবং প্রতিরোধের প্রতীক।
নারী মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের আত্মত্যাগের ওপর দাঁড়িয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি নির্মিত হয়েছে উল্লেখ করে বলা হয়, সেই ইতিহাস অস্বীকার করে নারীদের জনপরিসর ও কর্মক্ষেত্রকে অবমাননা করা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি সরাসরি অসম্মান।
কর্মজীবী নারীর অবদান ও সাংবিধানিক অধিকার
বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনীতি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতির বিকাশে কর্মজীবী নারীরা অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছেন।
তাঁদের শ্রম ও অবদানকে হেয় করা সংবিধানস্বীকৃত সমতা, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির পরিপন্থী।
একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের দায় ‘হ্যাকিং’-এর অজুহাতে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই বলেও স্পষ্ট করা হয়।
রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ক্ষেত্রে নৈতিক ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা অনিবার্য বলে উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে।
পদত্যাগ ও বিচারের দাবি
বিবৃতিদাতারা জোর দিয়ে বলেন, এই নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের দায় স্বীকার করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান
একই সঙ্গে রাষ্ট্র, গণমাধ্যম এবং সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নারীবিদ্বেষী রাজনীতি, বক্তব্য ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ, সচেতন ও সক্রিয় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
