প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব নেদারল্যান্ডসের পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশ ছেড়েছেন। দুবাই হয়ে তার নেদারল্যান্ডস যাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা সূত্র।
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বাংলাদেশ ত্যাগ করেছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দুবাইগামী একটি ফ্লাইটে দেশ ছাড়েন। বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা সূত্র এবং ইমিগ্রেশন বিভাগ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নেদারল্যান্ডসের পাসপোর্ট ব্যবহার ও গন্তব্য
সূত্র জানায়, ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ভ্রমণের সময় তার বাংলাদেশি পাসপোর্টের পরিবর্তে নেদারল্যান্ডসের পাসপোর্ট (নম্বর: NMF001DH5) ব্যবহার করেছেন।
সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।
তার প্রাথমিক গন্তব্য দুবাই হলেও চূড়ান্ত গন্তব্য নেদারল্যান্ডস বলে জানা গেছে।
বিমানবন্দর গোয়েন্দা শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, “তার (ফয়েজ তৈয়্যব) বিরুদ্ধে বিদেশযাত্রায় কোনো ধরনের আইনি নিষেধাজ্ঞা বা ‘লুকআউট নোটিশ’ না থাকায় ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।
তিনি বৈধ ভ্রমণ নথিপত্র ব্যবহার করেই দেশ ছেড়েছেন।”
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নিয়োগের ইতিহাস
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়, সেখানে প্রযুক্তি খাত সংস্কারের লক্ষ্যে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়।
নেদারল্যান্ডস প্রবাসী এই প্রকৌশলী ও লেখককে তার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তৎকালীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম পদত্যাগ করলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসে।
সেই সময় প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে ফয়েজ তৈয়্যবকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এর আগে তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে সংস্কার-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে কাজ করছিলেন।
নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি ও দেশত্যাগ
গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়।
নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতেই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা এবং বিশেষ সহকারীদের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন শুরু হয়।
বিশেষ করে যারা দ্বৈত নাগরিকত্ব ধারণ করেন, তাদের অবস্থান নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল ছিল।
এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মধ্যেই ফয়েজ তৈয়্যবের হঠাৎ দেশত্যাগ নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে এটি তার ব্যক্তিগত সফর নাকি তিনি স্থায়ীভাবে প্রবাসে ফিরে যাচ্ছেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রযুক্তি খাতে সংস্কার ও বিতর্ক
ফয়েজ তৈয়্যব দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের টেলিকম সেক্টর এবং আইসিটি বিভাগে বেশ কিছু আমূল পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
তবে বিদেশি নাগরিকত্ব এবং আন্তর্জাতিক লবিং নিয়ে মাঝেমধ্যেই তাকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা হয়েছে।
আজকের এই আকস্মিক প্রস্থানের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে।
