ইরানে পারমাণবিক হামলার চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প—সাবেক সিআইএ বিশ্লেষকের দাবি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে দ্বন্দ্বে নতুন বিতর্ক।
বিস্ফোরক দাবি ও রাজনৈতিক তোলপাড়

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক ল্যারি জনসন দাবি করেছেন, ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলা চালানোর জন্য কোড ব্যবহারের চেষ্টা করেছিলেন। তবে সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তার বাধার মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
এই দাবিটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
পডকাস্টে উঠে আসা তথ্য
এই সপ্তাহে “Judging Freedom” নামের একটি পডকাস্টে ল্যারি জনসন বিস্তারিতভাবে বিষয়টি তুলে ধরেন। তার দাবি অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত একটি জরুরি বৈঠকে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক হামলার পক্ষে জোর দেন।
সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সরাসরি এর বিরোধিতা করেন। জনসনের ভাষ্য অনুযায়ী, জেনারেল কেইন দাঁড়িয়ে প্রেসিডেন্টকে ‘না’ বলে দেন এবং সামরিক কর্তৃত্ব প্রয়োগ করেন। এতে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।
সামরিক-বেসামরিক দ্বন্দ্ব
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টই সামরিক বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। ফলে তার আদেশ চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই বাস্তবতায় একজন জেনারেল প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত প্রতিহত করতে পারেন কি না—তা নিয়ে ইতোমধ্যে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কাঠামোর মধ্যে গভীর মতবিরোধের ইঙ্গিত দেয়, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন
মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ১৮ এপ্রিল হোয়াইট হাউসে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠকে জেনারেল কেইন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ উপস্থিত ছিলেন।
পডকাস্টে দেখানো একটি ভিডিও ফুটেজে জেনারেল কেইনকে ক্ষুব্ধ অবস্থায় হোয়াইট হাউস থেকে বের হতে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অন্যদিকে The Washington Post জানায়, ট্রাম্প পূর্বে দাবি করেছিলেন যে জেনারেল কেইন ইরানে সামরিক অভিযানকে সহজ মনে করেন,
কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এমন কোনো পরামর্শ তিনি দেননি। এছাড়া The Wall Street Journal এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে,
ইরানে আটকে পড়া মার্কিন বৈমানিকদের উদ্ধারের সময় ট্রাম্পকে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘সিচুয়েশন রুম’ থেকে দূরে রাখা হয়েছিল।
মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন
প্রতিবেদনগুলোতে আরও দাবি করা হয়েছে, ওই সময় ট্রাম্প অত্যন্ত উত্তেজিত আচরণ করছিলেন এবং তার সহযোগীদের ওপর চিৎকার করছিলেন।
ফলে সামরিক কর্মকর্তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা সীমিত করেন।
এই ঘটনাগুলো ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা ও মানসিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্ব নিরাপত্তায় সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের মতো সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত নিয়ে এমন দ্বন্দ্ব শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ।
ইরান-এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক বরাবরই উত্তেজনাপূর্ণ। এর মধ্যে পারমাণবিক হামলার মতো বিষয় সামনে আসা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
