অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাসের অভিযোগ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর কারণে কিছু শিল্পীর ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—ফেসবুক লাইভে বিস্ফোরক মন্তব্য।
ফারুকীকে ঘিরে অরুণা বিশ্বাসের অভিযোগ
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে অভিনেত্রী অরুণা বিশ্বাস-এর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। তিনি বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী-এর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক লাইভে এসে আবেগঘন কণ্ঠে তিনি এসব অভিযোগ প্রকাশ করেন, যা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
“কিছু শিল্পীর জীবন শেষ করে দেওয়া হয়েছে”
ফেসবুক লাইভে অরুণা বিশ্বাস দাবি করেন, কিছু শিল্পীর পেশাগত জীবন পরিকল্পিতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কারণে শিল্পীদের কাজের সুযোগ কমে গেছে। তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, ফারুকী হয়তো মনে করছেন তিনি সফল হয়েছেন, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।
এই বক্তব্যের পর সাংস্কৃতিক অঙ্গনে মতভেদ দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ তার বক্তব্যকে সমর্থন করছেন, আবার অনেকে এটিকে ব্যক্তিগত অভিমান বা ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে দেখছেন।
কাজের সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ
অরুণা বিশ্বাস জানান, দেশে থাকাকালীন তিনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারেননি। বিভিন্ন জায়গায় কাজের চেষ্টা করেও বাধার মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “যেখানেই গেছি, সেখানেই কোনো না কোনোভাবে আটকে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, একজন শিল্পী হিসেবে কাজ করার অধিকার তার ছিল, কিন্তু সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অনুভূতি তাকে কষ্ট দিয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে তিনি দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানান।
দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা
লাইভে অরুণা বিশ্বাস উল্লেখ করেন, নিজের দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে—এমনটা তিনি কখনো কল্পনাও করেননি।
তবে কাউকে সরাসরি দায়ী না করলেও তিনি জানান, পরিস্থিতির চাপে তিনি নিজেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এয়ারপোর্টে এক ব্যক্তির আচরণ নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তার দাবি, ওই ব্যক্তি তাকে বারবার বিরক্ত করছিলেন। ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে এর কারণ জানতে চান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রবাস জীবন ও আবেগঘন বক্তব্য
অরুণা বিশ্বাস জানান, তিনি দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ধরে কানাডায় বসবাস করছেন।
তবে নিজের দেশকে তিনি এখনও গভীরভাবে মিস করেন। তার কথায়, “দেশের জন্য একটা টান সবসময়ই থাকে।”
তিনি আরও বলেন, তার
কাছে পাসপোর্ট না থাকলে হয়তো দেশে আসার সুযোগই পেতেন না—যা তার ভেতরের হতাশা ও দূরত্বের অনুভূতিকে আরও স্পষ্ট করে।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রতিক্রিয়া
অরুণা বিশ্বাসের এই মন্তব্যের পর সাংস্কৃতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
কেউ এটিকে শিল্পীদের দমিয়ে রাখার একটি বড় ইস্যু হিসেবে দেখছেন,
আবার কেউ বলছেন, এ ধরনের অভিযোগের পেছনে নির্দিষ্ট প্রমাণ থাকা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য যদি সত্য হয়, তবে তা দেশের সাংস্কৃতিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। অন্যদিকে,
এটি যদি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলা হয়, তবে বিষয়টি আরও গভীরভাবে যাচাই করা জরুরি।
অরুণা বিশ্বাসের ফেসবুক লাইভে দেওয়া বক্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শিল্পীরা কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন? তার অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া এখন সময়ের দাবি।
