কুমিল্লায় ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় ২০৮ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা। গ্রেপ্তার ৪৮ নেতা-কর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
কুমিল্লায় ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল: ২০৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা, ৪৮ জন কারাগারে
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ব্যানারে ঝটিকা মিছিল ও সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে ২০৮ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া ৪৮ জন নেতা-কর্মীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাঁদের হাজির করা হলে বিচারক এ আদেশ দেন। এর আগে রোববার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার মাটিয়ারা এলাকায় অনুষ্ঠিত ঝটিকা মিছিল থেকে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীকে আটক করে পুলিশ।
ঝটিকা মিছিল থেকে আটক ৪৮ জন
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের ব্যানারে একটি আকস্মিক মিছিল বের করা হয়। মিছিলে কয়েকশ নেতা-কর্মী অংশ নেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান দেন। মিছিলটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে অগ্রসর হওয়ার সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধাওয়া দেয়।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৪৫ জনকে আটক করা হয়। পরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে ৪৮ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের বয়স ও পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলছে।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা
সোমবার সকালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আহসান হাবীব বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় ৪৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ১৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমকে সমর্থন ও উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে এই মিছিল আয়োজন করা হয়েছিল।
পাশাপাশি সরকারবিরোধী স্লোগান ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তে উঠে আসা তথ্য
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক নেতার নির্দেশনা ও আর্থিক সহায়তায়
কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নেতাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
আদালতের নির্দেশ ও পুলিশের অভিযান
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশে গ্রেপ্তার ৪৮ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “মামলার অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভিডিও ফুটেজ, ছবি এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।”
পুলিশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ প্রতিরোধে এই অভিযান চলমান থাকবে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু
কুমিল্লার এ ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এটিকে
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতাভুক্ত অপরাধ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে কুমিল্লার এই ঘটনা প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
