হালান্ডের জোড়া গোলে ব্রাজিলকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে নরওয়ে। নেইমারের শেষ মুহূর্তের গোলও হার এড়াতে পারেনি।
ব্রাজিলকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ে
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে নাটকীয় লড়াইয়ে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। আর্লিং হালান্ডের দুর্দান্ত জোড়া গোল এবং গোলরক্ষক অরিয়ান নিল্যান্ডের অসাধারণ পারফরম্যান্সে ইউরোপের দলটি টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছে। শেষ মুহূর্তে নেইমারের পেনাল্টি গোল ব্যবধান কমালেও ব্রাজিলকে বিদায়ের হতাশা থেকে রক্ষা করতে পারেনি।
প্রথমার্ধে সুযোগ নষ্টের মাশুল
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের দেখা পায়নি। প্রথম দিকে নরওয়ের একটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। অন্যদিকে ১৫ মিনিটে পেনাল্টি পেয়েও এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে ব্রাজিল।
ব্রুনো গিমারাইসের নেওয়া স্পটকিক দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নিল্যান্ড। ম্যাচ শেষে এই সেভটিকেই অনেক বিশ্লেষক ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
বিরতির পর হালান্ডের জাদু
দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল বলের দখল ধরে রাখলেও আক্রমণে কার্যকর হতে পারেনি। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র একাধিকবার সুযোগ তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পাননি। কোচ কার্লো আনচেলত্তি বদলি হিসেবে এন্দ্রিক ও পরে নেইমারকে মাঠে নামালেও আক্রমণে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হন।
অন্যদিকে নরওয়ে ধৈর্য ধরে প্রতিআক্রমণের অপেক্ষায় ছিল। ৭৯ মিনিটে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের নিখুঁত ক্রস থেকে দারুণ হেডে গোল করে নরওয়েকে এগিয়ে দেন আর্লিং হালান্ড।
নিল্যান্ডের দুর্দান্ত গোলরক্ষণ
গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে আক্রমণ চালায় ব্রাজিল। ৮৬ মিনিটে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল গোলমুখে চলে গেলেও অসাধারণ উপস্থিত বুদ্ধিতে নিল্যান্ড ফিরে এসে বল পোস্টে ঠেলে দেন।
পুরো ম্যাচজুড়েই নরওয়ের এই গোলরক্ষক একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে ব্রাজিলের হতাশা আরও বাড়িয়ে দেন।
শেষ মুহূর্তে হালান্ডের দ্বিতীয় গোল
ব্রাজিল যখন সমতাসূচক গোলের জন্য সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণ করছিল, ঠিক তখনই ৮৯ মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে সুযোগ পান আর্লিং হালান্ড।
এবারও ভুল না করে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি এবং নরওয়েকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
এই জোড়া গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে হালান্ডের গোলসংখ্যা দাঁড়ায় সাত, যা তাকে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে নিয়ে যায়।
নেইমারের গোলেও রক্ষা পেল না ব্রাজিল
যোগ করা সময়ে কাসেমিরোকে ফাউলের অভিযোগে ভিএআরের সহায়তায় পেনাল্টি দেয় রেফারি।
সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ১০০তম মিনিটে গোল করেন নেইমার। যদিও পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নিয়ে ম্যাচ শেষে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
নেইমারের গোল ব্যবধান কমালেও শেষ পর্যন্ত আর সমতায় ফিরতে পারেনি ব্রাজিল।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে যায় নরওয়ে।
ম্যাচ বিশ্লেষণ
নরওয়ের জয়ের পেছনে ছিল পরিকল্পিত রক্ষণ, কার্যকর প্রতিআক্রমণ এবং আর্লিং হালান্ডের দুর্দান্ত ফিনিশিং। অন্যদিকে ব্রাজিল সুযোগ তৈরি করেও
তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে প্রথমার্ধের পেনাল্টি মিস এবং আক্রমণভাগের নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স দলটির বিদায়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
এই জয়ের মাধ্যমে নরওয়ে শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেনি, শিরোপার দৌড়েও নিজেদের শক্ত অবস্থানের বার্তা দিয়েছে। অন্যদিকে টুর্নামেন্ট শুরুর
আগে অন্যতম ফেবারিট হিসেবে বিবেচিত ব্রাজিলকে শেষ ষোলোর বাধাতেই বিদায় নিতে হওয়ায় ফুটবল বিশ্বে এটি বড় অঘটন হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
