অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলকে ভয়ভীতি ও হুমকির অভিযোগে চার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে শোকজ করা হয়েছে।
অ্যাটর্নি জেনারেলকে হুমকির অভিযোগে ৪ ডেপুটি শোকজ
বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শনের অভিযোগে চার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) করা হয়েছে। রোববার (৫ জুলাই) সন্ধ্যায় অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।
শোকজপ্রাপ্ত চার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন— মো. জহিরুল ইসলাম (সুমন), মো. রফিকুল ইসলাম (মন্টু), মুহাম্মদ মাসুদ রানা এবং মো. আশিকুজ্জামান (নজরুল)।
কী অভিযোগ আনা হয়েছে?
শোকজ নোটিশে উল্লেখ করা হয়, রোববার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে অ্যাটর্নি জেনারেল তার দপ্তরে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় উল্লিখিত চার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তার অফিস কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় বিচারপ্রার্থী ব্যক্তি এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের অন্যান্য আইন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তারা অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে অসংযত আচরণ করেন।
এছাড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং এমন বক্তব্য দেন, যাতে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে হুমকির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনার তথ্য সংরক্ষিত
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার পুরো বিষয়টি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ ও সংরক্ষিত রয়েছে।
ফলে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ভিডিও ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
কার্যালয় সূত্র জানিয়েছে, শোকজ নোটিশে সংশ্লিষ্ট চার কর্মকর্তাকে তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
প্রশাসনিক পদক্ষেপের অংশ হিসেবে শোকজ
সরকারি দপ্তরেদায়িত্ব পালনকালে অসদাচরণ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে হুমকি প্রদানবা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠলে প্রাথমিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে সাধারণত শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়।
এর মাধ্যমে অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের জবাব এ
বং সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
এ ঘটনায়ও একই ধরনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলে নোটিশ থেকে ধারণা পাওয়া যায়।
তবে তদন্ত বা ব্যাখ্যা পর্যালোচনার আগে অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
পরবর্তী করণীয়
সংশ্লিষ্ট চার ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের লিখিত জবাব পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ অভিযোগের সত্যতা, সিসিটিভি ফুটেজ
এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য পর্যালোচনা করবে। এরপর প্রয়োজন হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা বা অন্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় কিংবা শোকজপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে জানানো হতে পারে।
