জাতীয় সংসদ ভবনে মার্কিন স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের প্রতিবাদে সিপিবির বিক্ষোভ। সরকারের বিরুদ্ধে মার্কিন তোষণের অভিযোগ ও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন নেতারা।
জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের আয়োজনকে কেন্দ্র করে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। দলটির দাবি, এ ধরনের আয়োজন দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় মর্যাদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে, সরকার মার্কিন তোষণ নীতি অনুসরণ করছে এবং দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাববলয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সোমবার (৬ জুলাই) রাজধানীর পল্টন মোড়ে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাব ও কদম ফোয়ারা এলাকা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পল্টনে এসে শেষ হয়।
সরকারের নীতির সমালোচনা
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিপিবির সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বলে দাবি করা “দেশবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি” বাতিল না করে সরকার উল্টো মার্কিন তোষণের নীতি অনুসরণ করছে। সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে মার্কিন স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অনুমতি সেই নীতিরই প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
সংসদ ভবন ব্যবহারে আপত্তি
সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন বলেন, জাতীয় সংসদ জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতীক। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনাকে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের জাতীয় দিবস উদযাপনের জন্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া জাতীয় আত্মমর্যাদাবোধের পরিপন্থী।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানি সামরিক সরকারের প্রতি সমর্থন দিয়েছিল বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সংসদ ভবনে মার্কিন স্বাধীনতা দিবসের আয়োজন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনার জন্য দায়ীদের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানায় সিপিবি।
সার্বভৌমত্ব ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে উদ্বেগ
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে।
তাদের মতে, সংসদ ভবনের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিদেশি রাষ্ট্রের জাতীয় দিবস আয়োজন ভবিষ্যতে দেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে
অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। একারণে জাতীয় সংসদ ভবনসহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত কোনো স্থাপনা বিদেশি রাষ্ট্রের জাতীয় দিবস
বা অনুরূপ অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
অন্যান্য রাজনৈতিক ইস্যুতেও বক্তব্য
সমাবেশে সিপিবি নেতারা মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ভূমিকার অভিযোগ থাকা একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন।
তাদের দাবি, মুক্তিযুদ্ধ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এবং জামায়াত বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের বিপরীত অবস্থানে রয়েছে।
তবে এই বক্তব্যগুলো সিপিবির রাজনৈতিক অবস্থান ও অভিযোগ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা
সমাবেশ থেকে সিপিবির সভাপতি আগামী ৮ জুলাই দেশব্যাপী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত বলে উল্লেখ করা “দেশবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি” বাতিলের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে,
জাতীয় সংসদ ভবনের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিদেশি রাষ্ট্রের অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে।
বিষয়টি দেশের পররাষ্ট্রনীতি, কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে সামনে আসতে পারে।
