খুলনায় বিএনপি নেতা মহিবুজ্জামান কচির মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে আদালতের নির্দেশে পাঁচ মাস পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
৫ মাস পর কবর থেকে বিএনপি নেতা কচির লাশ উত্তোলন
নিজস্ব প্রতিবেদক | খুলনা | প্রকাশ: ৬ জুলাই ২০২৬
খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ মহিবুজ্জামান কচির মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে আদালতের নির্দেশে দাফনের প্রায় পাঁচ মাস পর তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। পরে পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
সোমবার (৬ জুলাই) খুলনা নগরীর টুটপাড়া কবরস্থানে আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন করেন প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর আবেদনের পর আদালত এ নির্দেশ দেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে পুনরায় ময়নাতদন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আদালতের নির্দেশে মরদেহ উত্তোলন
খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জুডিসিয়াল মুন্সিখানা শাখার জারি করা আদেশ অনুযায়ী, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুস সাকিবের উপস্থিতিতে দুপুরের দিকে মরদেহ উত্তোলনের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
এ সময় কবরস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিহতের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মরদেহ পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।
যেভাবে ঘটে কচির মৃত্যু
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে খুলনা সদর উপজেলার আলিয়া কামিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নির্বাচনি এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন মহিবুজ্জামান কচি।অভিযোগে বলা হয়েছে,
ভোটগ্রহণ চলাকালে ভোটারদের একটি নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট দিতে চাপ প্রয়োগের প্রতিবাদ করলে কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালান।
একপর্যায়ে কেন্দ্রের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রহিম সরদার তাকে ধাক্কা দিলে তিনি গাছের সঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে গুরুতর আহত হন।
পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর কারণ নিয়ে ভিন্নমত
ঘটনার পর থেকেই কচির মৃত্যুর কারণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি উঠে আসে।
বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, হামলার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
অন্যদিকে, জামায়াতের সংশ্লিষ্ট প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, কচি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন।
এ সময় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে শরীরে গুরুতর দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলেও জানা যায়।
একই সঙ্গে কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যরাও বড় ধরনের সংঘর্ষের বিষয়টি তাদের নজরে আসেনি বলে জানিয়েছিলেন।
হত্যা মামলার তদন্তে নতুন মোড়
নিহতের পরিবার শোকাহত থাকায় কিছুদিন পর খুলনা সদরথানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনআদালতে একটি নালিশি হত্যামামলা দায়ের করেন।
মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে আরও ১৫, ২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করাহয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের দায়িত্ব পিবিআইকে দেয়।
তদন্তকারীরা জানান, পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তার কারণে মরদেহ উত্তোলনের আবেদন করা হয়েছিল।
তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায়
বাদী ইউসুফ হারুন মজনু বলেন, তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার প্রত্যাশা করছেন।
এদিকে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পুনরায় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মামলার তদন্তের পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ করা হবে। ফলে বহুল আলোচিত এই মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
