জামায়াতকে মোনাফেক ও শয়তান দল আখ্যা দিয়ে তাদের থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান।
অনলাইন ডেস্ক •
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চরম সমালোচনা করে রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। জামায়াতকে ইতিহাস ও বর্তমান রাজনীতির সবচেয়ে বিভ্রান্তিকর শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, জামায়াতের মতো চরম মোনাফেক, চতুর ও শয়তান রাজনৈতিক দলের জন্ম পৃথিবীতে আর দ্বিতীয়টি ঘটেনি।
সম্প্রতি নিজ নির্বাচনী এলাকায় আয়োজিত এক রাজনৈতিক ও সামাজিক সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই বিস্ফোরক ও তীক্ষ্ণ মন্তব্য করেন। তাঁর এই বক্তব্য ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
‘সৎ ও প্রকৃত মাওলানাদের একশো সালাম, কিন্তু ওদের থেকে সাবধান’
বক্তব্যকালে অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ধর্মীয় মূল্যবোধের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে খাঁটি আলেম-ওলামাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহারকারীদের কঠোর সমালোচনা করেন।
তিনি উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন:
“আমি সরাসরি ওই সুবিধাবাদী চক্রের বিরুদ্ধেই কথা বলছি। যারা প্রকৃত ঈমানদার, পরহেজগার এবং দ্বীনের অনুসারী ভালো মাওলানা—তাদের আমি সবসময় এক শতবার সালাম ও সম্মান জানাই। তবে ধর্মের ছদ্মবেশে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলকারী এই জামায়াত নামক দলটির থেকে সাধারণ মানুষকে সর্বদা সতর্ক ও দূরে থাকতে হবে।”
(এখানে এমপি অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের বক্তব্যের একটি প্রতীকী ছবি যুক্ত করুন)
ক্যাপশন: সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। (ছবি: সংগৃহীত)
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্নয়ন বরাদ্দ ও প্রতিশ্রুতি
রাজনৈতিক সমালোচনার পাশাপাশি নিজ এলাকার উন্নয়ন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন বরাদ্দের খতিয়ানও তুলে ধরেন এই সংসদ সদস্য।
এলাকার প্রতিটি ধর্মীয় উপাসনালয় ও উপাসনালয়-সংলগ্ন স্পর্শকাতর জায়গাগুলোর অবকাঠামোগত মানোন্নয়নে সরকারের সদিচ্ছার কথা ব্যক্ত করেন তিনি।
অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান জানান, বর্তমান সরকারের প্রধান দিকনির্দেশনায় এলাকার প্রতিটি ইউনিয়নের মসজিদ, মাদরাসা, গোরস্থান, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মন্দির
এবং শ্মশানঘাটের সার্বিক সংস্কার ও উন্নতির জন্য ৩০ লাখ টাকা করে বিশেষ প্রশাসনিক ফান্ড অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি স্থানীয় প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্য করে স্পষ্ট বার্তা দেন:
“যদি কোনো নির্দিষ্ট মসজিদ, মন্দির বা সামাজিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এই বরাদ্দের অর্থ পাওয়া থেকে বাদ পড়ে থাকে বা এখনও না পেয়ে থাকে, তবে সরাসরি আমাকে বিষয়টি জানান। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আগামী অর্থবছরের সরকারি উন্নয়ন বাজেটের বরাদ্দ আসা মাত্রই সেই অনাদায়ি প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রথম অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থ ছাড় করা হবে।”
রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড়
এমপি ফজলুর রহমানের এই চাঁচাছোলা বক্তব্যের পর স্থানীয় রাজনীতিসহ জাতীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
একদিকে তাঁর সমর্থকরা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সরকারি উন্নয়ন তহবিলের খবর ও জামায়াতবিরোধী স্পষ্ট অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন;
অন্যদিকে তাঁর এই কড়া মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন বিরোধী মতাদর্শী শিবিরের নেতাকর্মীরা।
