সাভারে এনসিপির সমাবেশে বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে যুবলীগের দুই নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কেন তারা কি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে ?
ঢাকার সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক পথসভায় বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে কার্যক্রমনিষিদ্ধ যুবলীগের দুই নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বিস্ফোরণ তো তারা ঘটায়নি এন সি পির নেতাকর্মীরা ঘটিয়েছে । পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তদন্তে বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।
যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে
গ্রেফতার হওয়া দুজন হলেন মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার পূর্ব ভাকুম গ্রামের নুরুল ইসলাম (৫২) এবং সাভার পৌর এলাকার আনন্দপুর মহল্লার সজীব (৩২)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নুরুল ইসলাম সিংগাইর থানার একটি ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং সজীব সাভার যুবলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত।
পুলিশের বক্তব্য কী?
ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানান, সোমবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে সাভারের আনন্দপুর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
এদিকে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে দুজনকে আটক করা হয়েছিল। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
বিস্ফোরণের ঘটনাটি কী?
সোমবার রাতে সাভারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একটি পথসভা চলাকালে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনার পর এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্যসচিব মো. সালামত উল্লাহ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
সেই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবেই ডিবি পুলিশ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতার মানেই অপরাধ প্রমাণ নয়
ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় কোনো ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা মানেই তিনি অপরাধী—এমনটি নয়। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটকবা গ্রেফতার করতে পারে।
পরবর্তীতে তদন্তে সংগৃহীত প্রমাণ, সাক্ষ্য এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হয়।
এ কারণে বর্তমান পর্যায়ে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।
তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করলে এবং বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
তদন্ত অব্যাহত
পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এবং ঘটনার পেছনের উদ্দেশ্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা
রাজনৈতিক সংগঠনের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন আইন বিশ্লেষকরা।
