নিজস্ব প্রতিবেদক

চামড়া খাতের সফল ব্যবসায়ী সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর হাত ধরেই দেশে উৎপাদিত চামড়ার জুতার রপ্তানি শুরু হয়। এপেক্স ফুটওয়্যারের প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহীর পরিবারের আর কেউ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ছোটবেলায় বাবা-ভাইদের দুই একবার জানিয়েছিলেন—বড় হয়ে ব্যবসায়ী হবেন। এ কথা শুনে তাঁরা হাসতেন।
বলতেন—‘তুই ব্যবসার কী বুঝিস? আমাদের চৌদ্দপুরুষে কেউ ব্যবসায়ী নাই।’ এ কথা শুনেও তিনি দমে যাননি।
ছোটবেলা থেকে ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার যে স্বপ্ন দেখতেন সেটা একসময় ঠিকই পূরণ করেন তিনি। তবে তাঁর ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল চাকরিজীবী হিসেবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েই বহুজাতিক কম্পানি পাকিস্তান টোব্যাকোতে (বর্তমানে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো) চাকরি পান। করাচিতে শুরু করেন কর্মজীবন। ১৯৭০ সালে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বদলি হন ঢাকায়। মাঝে কয়েক মাসের জন্য উচ্চ পদে বিদেশে কাজ করেন।
সেখানে সুযোগ-সুবিধাও ছিল অনেক বেশি। এর পরও অভিজাত নিশ্চিত জীবন ছেড়ে তিনি দুর্গন্ধময় হাজারীবাগে শুরু করেন চামড়ার ব্যবসা। দুর্গন্ধের মধ্যেই ঘুরে ঘুরে চামড়া কিনতেন। তবে এই কাজে তাঁর কোনো অনীহা ছিল না। ব্যবসায়ী হিসেবে পাওয়া স্বাধীনতার স্বাদ বেশ উপভোগ করতেন।
১৯৭২ সালে মঞ্জুর ইন্ডাস্ট্রিজ নামের কম্পানি করে কমিশনের ভিত্তিতে চামড়া বিক্রির ব্যবসায় নামেন সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী। চার বছর পর ১৯৭৬ সালে ১২ লাখ ২২ হাজার টাকায় রাষ্ট্রমালিকানাধীন ওরিয়েন্ট ট্যানারি কিনে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন এপেক্স ট্যানারি। তারও ১৪ বছর পর যাত্রা শুরু করা এপেক্স ফুটওয়্যার এখন দেশের শীর্ষ জুতা রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান।
সফল ব্যবসায়ীর পাশাপাশি তিনি ১৯৯৬ সালে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। তখন যোগাযোগ, নৌপরিবহন, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। ২০০১ সালেও ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা। এর বাইরে সংগঠক হিসেবেও অনেক কাজ করেছেন সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী। মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ঢাকার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছিলেন। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডির ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যও তিনি।
