বিশ্ববাজারে সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম কমলেও বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের দাম কমছে না। ইউনুস সরকারের ব্যর্থতা ও সিন্ডিকেটের লুটপাটে জিম্মি সাধারণ মানুষ।
ঢাকা, ২৩ এপ্রিল ২০২৫ –
যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন ও পাম অয়েলের দাম তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন, সেখানে বাংলাদেশে তেলের দাম আকাশছোঁয়া। ইউনুস সরকারের ব্যর্থতা, বাজার পর্যবেক্ষণের ঘাটতি ও ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের লাগামহীন দুর্নীতির কারণে দেশের সাধারণ মানুষ আজ চরম ভোগান্তিতে।
আন্তর্জাতিক বাজার বনাম বাংলাদেশ:
২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের গড় দাম ছিল মাত্র ১০২২ ডলার প্রতি টন। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভোজ্যতেলের দাম কমিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বাংলাদেশে উল্টো প্রতি লিটারে ১৪ টাকা বাড়ানো হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতি লিটারে অন্তত ১২ টাকা অতিরিক্ত মুনাফা করছে ব্যবসায়ীরা। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর মনিটরিং বা মূল্য সমন্বয়ের উদ্যোগ দেখা যায়নি।
সিন্ডিকেট বনাম সাধারণ মানুষ:
ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ডলার সংকট, ব্যাংকিং সমস্যা, এবং আমদানির জটিলতা দেখিয়ে একের পর এক ভোজ্যতেল, চিনিসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে চলেছে।
কিন্তু এসব অজুহাত যে মূলত লুটপাটের পথ সুগম করতেই ব্যবহার করা হচ্ছে, তা বলছেন অর্থনীতিবিদরাও।
একজন বাজার বিশ্লেষক বলেন, “সরকার যদি সত্যিই মনিটরিং করত, তাহলে আন্তর্জাতিক দরপতনের সুফল অন্তত কিছুটা হলেও ভোক্তারা পেতেন। কিন্তু এখানে উল্টো চিত্র।”
সরকারের ভূমিকা কোথায়?
ইউনুস সরকারের নীরবতা ও অদক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ। একদিকে সরকার সিন্ডিকেট ভাঙার কথা বলছে, অন্যদিকে কার্যত কিছুই করছে না।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, তারা “পর্যবেক্ষণ” করছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই পর্যবেক্ষণের ফলাফল কখনোই জনগণের কাছে পৌঁছায় না।
জনগণের প্রশ্ন:
- যখন বিশ্বে তেলের দাম পড়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশে কেন তা কমছে না?
- কেন প্রতিটি দরপতনের সুযোগে সিন্ডিকেট মুনাফার উৎসব করে?
- এই লুটপাট বন্ধে সরকার কেন ব্যর্থ?
বাংলাদেশের মানুষ আজ ন্যায্য বাজার মূল্যের জন্য লড়াই করছে। কিন্তু ইউনুস সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় এই লড়াইটা হয়ে উঠছে একতরফা। সিন্ডিকেট লাভ করছে, জনগণ হারাচ্ছে—প্রতিদিন।
