চট্টগ্রামে আজ এক শান্তিপূর্ণ সুন্নি ধর্মীয় মিছিলে বর্বর হামলার ঘটনা দেশজুড়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। ধর্মীয় অধিকার আদায়ের ন্যায্য দাবিতে সুন্নি অনুসারীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিলেও, পুলিশ প্রথমে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং পরে লাঠিচার্জ শুরু করে। এরপর আরও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে – পুলিশ ও সেনাবাহিনির উপস্থিতিতেই জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা মিছিলকারীদের উপর বেধড়ক হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে দাঁড়িয়েও জামায়াত-শিবিরপন্থীরা নির্বিঘ্নে হামলা চালিয়েছে। এ ধরনের আক্রমণ রাষ্ট্রীয় ছত্রছায়া ছাড়া সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
“প্রশ্ন একটাই,” বলেন একজন মানবাধিকার কর্মী, “সেনাবাহিনীর চোখের সামনে কিভাবে কট্টরপন্থীরা শান্তিপূর্ণ মিছিলকারীদের উপর হামলা চালায়? তবে কি রাষ্ট্রও এতে অংশীদার?”
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা জানান, তারা রাস্তা দখল করেননি, যান চলাচলেও বাধা দেননি—শুধু ন্যায়সঙ্গত ধর্মীয় অধিকারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু তারই জবাবে গুলি, টিয়ারশেল, লাঠিচার্জ ও হামলা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর রাষ্ট্রীয় আগ্রাসনের ইঙ্গিত বহন করে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, মিছিলটি ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং পূর্বানুমতি নিয়ে সংগঠিত। অথচ পুলিশ ও সেনাবাহিনী সংলগ্ন এলাকায় জামায়াত-শিবিরের অতর্কিত আক্রমণ, এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা—এই দুটি বিষয়ই রাষ্ট্রীয় পক্ষপাত বা উদাসীনতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সরকার যদি এই ঘটনাকে উপেক্ষা করে, কিংবা নিরব থাকে, তাহলে অনেকেই ধরে নেবে যে হামলাকারীরা রাষ্ট্রীয় সমর্থন পেয়েই সুন্নি জনগোষ্ঠীর উপর এই সহিংসতা চালিয়েছে।
