নুসরাত ফারিয়ার গ্রেপ্তার নিয়ে উদ্বেগ জানালেন ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান। এই ঘটনা বিচার না প্রতিশোধ? বিশ্লেষণে থাকছে রাজনীতি, সংস্কৃতি ও মানবাধিকার ইস্যু।

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন চমক হয়ে এসেছে জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়ার গ্রেপ্তার। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চরিত্রে অভিনয় করা এই তারকাকে ইমিগ্রেশন পুলিশ গ্রেপ্তার করে থাইল্যান্ডে যাওয়ার সময়। এরপর তাকে নেওয়া হয় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের হেফাজতে।
তবে এ গ্রেপ্তারকে ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক আর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও এসেছে সরবভাবে।
ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “নুসরাত ফারিয়ার গ্রেপ্তার গভীর উদ্বেগজনক। এটি প্রতিশোধের রাজনীতি।”
এ মামলার পর্দা উন্মোচন করে দেখা যায়, ২৯ এপ্রিল ঢাকার সিএমএম আদালতে এক হত্যাচেষ্টা মামলায় ফারিয়াসহ ১৭ জন শিল্পীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, তারা ছিলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ও অভিযানে অর্থায়নকারী। এজাহারে শেখ হাসিনাসহ ২৮৪ জনের নাম উল্লেখ করে বাদী এনামুল হক এ মামলা দায়ের করেন।
এই পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠছে—এই মামলা কি শুধুই একটি আইনগত প্রক্রিয়া? নাকি এখানে কাজ করছে রাজনৈতিক প্রতিশোধ ও ‘নতুন বাংলাদেশ’ গঠনের সামাজিক প্রকল্প?
ডেভিড বার্গম্যানের ভাষ্য অনুসারে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এখন নৈতিক ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় হিমশিম খাচ্ছে।
তিনি বলেন,
“সাধারণ আওয়ামী সমর্থক হওয়াও এখন ঝুঁকির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, ভিত্তিহীন অভিযোগে যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারে কেউ।”
তিনি আরও বলেন,
“এটি ন্যায়বিচার নয়, এটি আইনের শাসনের নাম করে প্রতিশোধ। আজ বাংলাদেশে এমন কোনো বড় রাজনৈতিক শক্তি নেই যারা মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায় সক্রিয়।”
এই বক্তব্য শুধু একটি মন্তব্য নয়, বরং এটা বর্তমান বাংলাদেশের রাজনীতি, বিচারব্যবস্থা ও নাগরিক অধিকার নিয়ে একটি অস্বস্তিকর ও গভীর প্রশ্ন তোলে।
নুসরাত ফারিয়া, অপু বিশ্বাস, নিপুণ, সুবর্ণা মুস্তাফাসহ জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এই মামলার আসামি। তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে সরাসরি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রমাণ নেই, তবু ‘ঘনিষ্ঠতা’ বা ‘অর্থায়ন’ই কীভাবে অপরাধে পরিণত হলো?
এ প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলছে না কোনো পক্ষ থেকেই। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে দুপক্ষের হিংস্র মতাদান ও বিচারপূর্ব নিন্দা।
এই গ্রেপ্তার কেবল একটি মামলা নয়—এটি এক সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রজন্মের ওপর আস্থা ও নিরাপত্তাহীনতার এক প্রতিচ্ছবি। এখানে প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ কোন পথে হাঁটছে?
নুসরাত ফারিয়ার গ্রেপ্তার একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি বিচার, রাজনীতি ও সংস্কৃতির ত্রিমুখী সংঘাতের প্রতীক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও এর মাধ্যমে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনের সুশাসন ছাড়া এমন প্রতিটি পদক্ষেপই ভবিষ্যতে গণতন্ত্র ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক হুমকি হতে পারে।
