প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার পর ড. ইউনূসের গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানের একের পর এক সরকারি সুবিধা পাওয়ায় উঠেছে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন। পড়ুন বিশ্লেষণ।
বিশেষ প্রতিনিধি: স্বপ্নীল আর্য;
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘গ্রামীণ’ গোষ্ঠীর একের পর এক সরকারি সুবিধা পাওয়ার ঘটনা এখন জাতীয় বিতর্কে পরিণত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন থেকে শুরু করে করছাড়, জনশক্তি রপ্তানি লাইসেন্স, ডিজিটাল ওয়ালেট চালু—সব মিলিয়ে জোরালো হয়েছে প্রশ্ন: এই সিদ্ধান্তগুলোর পেছনে কি স্বার্থের সংঘাত আছে?
🏛️ প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ:
- তারিখ: ৮ আগস্ট ২০২৪
- পটভূমি: ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন ড. ইউনূস।
🏫 গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি অনুমোদন:
- আবেদন: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪
- অনুমোদন: মার্চ ২০২৫
- বিশেষত্ব: ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ ‘গ্রামীণ ট্রাস্ট’ পরিচালিত
- সমালোচনা: মাত্র ৩ মাসে অনুমোদন; অন্যান্য প্রতিষ্ঠান বছরের পর বছর অপেক্ষা করে
🌍 জনশক্তি রপ্তানির লাইসেন্স (জিইএসএল):
- RL No. 2806; অনুমোদন: জানুয়ারি ২০২৫
- বায়রায় সদস্যপদ: এপ্রিল ২০২৫
- মূল মালিক: গ্রামীণ সেন্টার (৯০%), গ্রামীণ শিক্ষা (১০%)
- পূর্বের আবেদন: ২০০৯ সাল থেকে ঝুলে ছিল
💳 ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা (PSP) অনুমোদন:
- প্রতিষ্ঠান: সমাধান সার্ভিসেস লিমিটেড (গ্রামীণ টেলিকমের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান)
- লাইসেন্স: সেপ্টেম্বর ২০২৪
- আবেদন ছিল: নভেম্বর ২০২১, অনুমোদন মেলে ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার এক মাস পর
🏦 গ্রামীণ ব্যাংকের শেয়ার কাঠামো পরিবর্তন ও করছাড়:
- সিদ্ধান্ত: এপ্রিল ২০২৫ – সরকারের শেয়ার ২৫% → ১০%
- কর মওকুফ: ২০২৯ সাল পর্যন্ত কর ছাড় ঘোষণা (অক্টোবর ২০২৪)
- বোর্ড কাঠামো: সরকারের নিয়োগ ক্ষমতা বিলুপ্ত
⚖️ মামলা খালাস ও বিতর্ক:
- অর্থপাচার মামলা খালাস: ১১ আগস্ট ২০২৪ (দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিন পর)
- শ্রম আইন লঙ্ঘন মামলা খালাস: ৭ আগস্ট ২০২৪ (শপথ নেওয়ার আগের দিন)
এই দ্রুত খালাস ও মামলা নিষ্পত্তি সরকারের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
🧠 বিশ্লেষণ: স্বার্থের সংঘাত নাকি ন্যায্যতা?
🗨️ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের মত:
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন:
“যেহেতু প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তাই স্বচ্ছতা ও স্বার্থের সংঘাত এড়াতে এসব সিদ্ধান্তের যৌক্তিক ভিত্তি জনগণের সামনে প্রকাশ করা জরুরি।”
🗨️ সরকারের প্রতিক্রিয়া:
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন—
- ইউনূসের কোনও ব্যক্তিগত শেয়ার নেই
- গ্রামীণ নাম থাকলেও এগুলো ইউনূসের ‘নিজস্ব’ প্রতিষ্ঠান নয়
- আগেই এসব প্রতিষ্ঠানের আবেদন ঝুলে ছিল, এখন যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন মিলেছে
“আপনারা দেখান—কোন সিদ্ধান্তে সরকার সরাসরি প্রভাব রেখেছে?” — শফিকুল
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের এই 'গ্রামীণপন্থী’ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তসমূহ নতুন ধরনের নীতিগত ও প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব তৈরি করছে। রাষ্ট্রক্ষমতার ঘনিষ্ঠতাকে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত/সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সুবিধা নিশ্চিত করার দৃষ্টান্ত স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
যদিও সরকার দাবি করছে সবকিছু নিয়ম মেনে হয়েছে, তথাপি একাধিক দ্রুত অনুমোদন, মামলা খালাস এবং প্রতিষ্ঠানিক লাভপ্রাপ্তি জনগণের আস্থায় চিড় ধরানোর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
