
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে শহরে প্রশাসনিক অচলাবস্থা সৃষ্টি করেছে ‘বৈছা’ ও ‘ছাত্র-জনতা’ নামধারী উগ্র সংগঠন। পুলিশের ভাষ্য ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ঘিরে ব্যাপক উদ্বেগ।
অনলাইন ডেক্সঃ মুক্তিবার্তা৭১
আজ দুপুরে খুলনা শহর এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক অচলাবস্থার মুখে পড়ে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কার্যালয়ে তালাবদ্ধ করে শহরের প্রবেশপথ অবরুদ্ধ করে রাখে একদল তথাকথিত ছাত্র আন্দোলনকারী। পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র’ (বৈছা) এবং চরমপন্থী ‘ছাত্র-জনতা’ নামধারী সংগঠন, যার পেছনে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
🔥 উত্তপ্ত পরিস্থিতি
দুপুর ১২টার দিকে শুরু হওয়া এই ‘আন্দোলন’ দ্রুত উত্তেজনা ছড়ায়। কেএমপি কার্যালয়ের ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা এবং খুলনার রূপসা সেতুসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা অবরোধ করে। কয়েক ঘণ্টার জন্য খুলনা শহরের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। জনজীবনে তীব্র দুর্ভোগ দেখা দেয়।
📍এসআই সুকান্ত ইস্যু: ষড়যন্ত্র না প্রকৃত দাবি?
মব সন্ত্রাসীদের দাবি—সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া এসআই সুকান্ত দাশকে ‘গোপনে ছেড়ে দেওয়া’ হয়েছে। তবে কেএমপি কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন,
“সুকান্ত পলাতক নয়, তিনি বর্তমানে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের অধীনে কর্মরত। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশের।”
🔍 রাজনৈতিক ইন্ধন: ‘ছাত্র-জনতা’ ও এনসিপি
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই তথাকথিত ছাত্র আন্দোলনের পেছনে সক্রিয় রয়েছে এনসিপি নামের অপ্রকাশিত রাজনৈতিক সংগঠন, যাদের কার্যক্রমের আইনি বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে।
তারা আরও বলেন,
“এসব সংগঠনের আন্দোলনের ধরন শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, বরং এটি প্রশাসনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পিত চক্রান্ত।”
🩸 সহিংসতার প্রেক্ষাপট
গতকালই এসআই সুকান্ত দাশ খুলনার ইস্টার্ন গেট এলাকায় মব হামলার শিকার হন। তাঁকে বিএনপির কর্মীরা আক্রমণ করে এবং পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়,
“তাকে স্থানীয় থানায় নেওয়া হয় ও পরে চিকিৎসা শেষে চুয়াডাঙ্গায় পাঠানো হয়।”
📢 উদ্বেগ ও পরিণতি
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন,
“এই মব কার্যকলাপ কেবল তাৎক্ষণিক জনদুর্ভোগ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। প্রশাসনের একটি প্রধান কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবজ্ঞার শামিল।”
তারা আরও বলেন,
“ছাত্র-জনতা ও এনসিপির মত সংগঠনগুলো নতুনভাবে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির রূপ নিচ্ছে। সরকারের উচিত দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা।”
🧩 মূল পয়েন্টস:
- কেএমপি কার্যালয়ে তালা দিয়ে শহর অচল করে দেয় ‘বৈছা’ ও ‘ছাত্র-জনতা’
- এনসিপির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন
- এসআই সুকান্ত দাশের ওপর বিএনপি কর্মীদের হামলা
- আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর লাগাতার চাপ ও সন্ত্রাসের অভিযোগ
- বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি প্রশাসনের বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র
