পটিয়া থানার ওসি প্রত্যাহারে এনসিপির চাপ কি নতুন নজির? মব সন্ত্রাসের ছত্রছায়ায় প্রশাসন পরিচালিত হলে রাষ্ট্র কি মগের মুল্লুক হয়ে যাবে?
পটিয়ার থানার ওসি আবু জায়েদ মো. নাজমুন নূরকে ২ জুলাই রাতেই প্রত্যাহার করেছে চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ। এই পদক্ষেপ এসেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP) এবং তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতৃত্বে পরিচালিত মহাসড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ, ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সরাসরি সংঘর্ষের পর।
এনসিপির পরিকল্পিত প্রেসার?
সচেতন মহলের প্রশ্ন—এই সিদ্ধান্ত কি আইন অনুযায়ী, নাকি চাপ ও হুমকির রাজনীতি সফল হয়েছে?
একজন বিশ্লেষক বলেন—
“যেখানে একটি সংগঠন নিজেরাই মব ভায়োলেন্স চালায়, ভাঙচুর করে, পুলিশকে হেনস্থা করে—সেই সংগঠনের দাবিতে প্রশাসন ওসি প্রত্যাহার করলে সাধারণ মানুষ কার কাছে ন্যায়বিচার চাইবে?”
এনসিপি কি এখন ক্ষমতার বিকল্প কেন্দ্র?
গত ১১ মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে এনসিপি’র নেতৃত্বে যেসব ঘটনা ঘটেছে—
- বিভিন্ন থানায় হামলা ও পুলিশ সদস্যদের অপদস্থ করা
- সড়ক অবরোধ ও বাণিজ্যিক এলাকায় ভাঙচুর
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘেরাও ও রাজনৈতিক বিরোধীদের উপর হামলা
- নিজেদের অন্যায় আড়াল করতে প্রশাসনের বিরুদ্ধেই প্রচার
এরপর আবার নিজেরাই প্রেসার গ্রুপের মতো প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ দাবি করছে—এটি রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ।
শফিকুল আলমের বক্তব্য: প্রেসার গ্রুপ নাকি চক্রান্ত?
প্রধান উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ সচিব শফিকুল আলম সম্প্রতি মন্তব্য করেছিলেন—
“এনসিপি কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এরা একটি সক্রিয় প্রেসার গ্রুপ, যাদের উদ্দেশ্য দেশের নিয়ন্ত্রিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে সুবিধা আদায়।”
এই মন্তব্যই যেন বাস্তবতায় পরিণত হলো পটিয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে। এমনকি অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন,
“ওসি যদি দোষী হয়, তবে তদন্তে প্রমাণ দাও। তা না করে মবের দাবিতে পদক্ষেপ নেওয়া কি আইনের শাসন?”
রাষ্ট্র কি মগের মুল্লুকে পরিণত হচ্ছে?
একজন সাধারণ নাগরিকের ভাষায়—
“এভাবে রাষ্ট্র চলতে পারে না। যাদের হাতে লাঠি আছে, যারা গলা ফাটাতে জানে, তারাই যদি সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারে, তবে বাংলাদেশে আর প্রশাসনের প্রয়োজন কী?”
জনগণ এখন জানতে চায়:
- প্রশাসন কি সত্যিই স্বাধীন?
- ওসি প্রত্যাহার একটি নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা, নাকি মব তন্ত্রের জয়?
- এনসিপির এই আচরণকে উৎসাহ দিয়ে রাষ্ট্র কী বিপদ ডেকে আনছে না?
পটিয়ার ওসি প্রত্যাহার একটি ঘটনা নয়—এটি রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত সংকটের প্রতিচ্ছবি।
যদি মব সন্ত্রাস ও রাজনৈতিক চাপে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেটি গণতন্ত্রের মৃত্যু, শৃঙ্খলার ভাঙন এবং আইনের পরাজয়।
এখন প্রশ্ন একটাই:
“রাষ্ট্র কার হাতে?”—আইনের, না মবের?
