ভারতীয় সেনাবাহিনী মিয়ানমারে ড্রোন হামলা চালিয়ে ULFA -র ৪টি ঘাঁটি ধ্বংস করেছে। শীর্ষ নেতা নয়ন আসাম নিহত, আহত ১৯। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে এটি ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তা নীতির নতুন রূপ।
_মুক্তিবার্তা৭১
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ULFA -আই দাবি করেছে, রোববার ভোরে ভারতীয় সেনাবাহিনী মিয়ানমারের অভ্যন্তরে তাদের চারটি ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে তাদের অন্যতম শীর্ষ কমান্ডার নয়ন মেধি ওরফে নয়ন আসাম নিহত হয়েছেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
হামলার সময় ভোর ২টা থেকে ৪টার মধ্যে প্রায় ১০০টির মতো অ্যাটাক ড্রোন ব্যবহৃত হয়।
হামলায় আরও ১৯ জন ULFA যোদ্ধা আহত হন।
ভারতের সামরিক সূত্র থেকেও হামলার সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে, যদিও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এই ঘাঁটিগুলো ULFA এবং মণিপুরের PLA যৌথভাবে ব্যবহার করত বলে জানা গেছে।
পূর্বে বিশেষ বাহিনী দিয়ে অভিযান পরিচালনা করলেও এবার ভারতের সেনাবাহিনী আধুনিক প্রযুক্তির ড্রোন, স্যাটেলাইট এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সরাসরি আঘাত হানে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের উদ্দেশ্য হচ্ছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বিদ্রোহীদের জন্য মিয়ানমারে থাকা নিরাপদ ঘাঁটিগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং সীমান্ত সুরক্ষাকে শক্তিশালী করা।
ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে এই আঘাত এখন অধিক নির্ভুল, অস্বীকারযোগ্য এবং কার্যকর হয়ে উঠছে।
হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ৭৭৯ নম্বর ক্যাম্প, ওয়াকথাম বাস্তি এবং ULFA-র পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তর।
নয়ন আসামের পাশাপাশি ব্রিগেডিয়ার গণেশ লাহনও নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও ভারতীয় সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
ULFA এই হামলাকে “ভারতীয় দখলদার বাহিনীর আগ্রাসন” আখ্যা দিয়ে প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে।
মিয়ানমার সরকার এবং ভারত যৌথ অভিযান অস্বীকার করলেও সূত্র বলছে, দুই দেশের সেনাবাহিনী মধ্যে গোপন সমন্বয় হতে পারে।
এই ড্রোন হামলার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া এখনো পরিস্কার নয়।
তবে এটি ভারতের কঠোর সীমান্তনীতি ও প্রযুক্তি নির্ভর নিরাপত্তা কৌশলের একটি দৃশ্যমান উদাহরণ হয়ে থাকবে।
