নিজস্ব প্রতিবেদক

বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলি বিচারকদের শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ। এই পদক্ষেপগুলি রয়েছে:
সম্পত্তির বিবরণ দাখিল:
বিচারকদের তিন বছর পরপর এবং অবসর নেওয়ার ছয় মাস আগে তাঁদের এবং তাঁদের নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের সম্পত্তির বিবরণ দাখিল করতে হবে।
সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এই বিবরণগুলি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে এবং তা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রকাশ করবে।
দুর্নীতির অভিযোগের প্রক্রিয়া:
সুপ্রিম কোর্টে অভিযোগ বাক্স স্থাপন এবং ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ দাখিলের জন্য নির্দিষ্ট ই-মেইল ঠিকানা জনসাধারণকে জানানো হবে।
অধস্তন আদালতে কর্মরত বিচারকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
এই কমিটি প্রতি তিন মাস পরপর দাখিল হওয়া অভিযোগগুলো পরীক্ষা করবে এবং অভিযুক্তের বক্তব্য শুনবে। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা আছে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে অভিযুক্ত বিচারকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের বা অন্যবিধ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেবে।
সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ভূমিকা:
সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল বিচারিক দক্ষতা, আদালত ব্যবস্থাপনা, মামলা ব্যবস্থাপনা, আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে বিচারকদের আচরণ পর্যবেক্ষণ-পর্যালোচনার কাজ করবে।
সংবিধানের সংশোধনী:
সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনী এবং যথাযথ কার্যপদ্ধতি প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
এই পদক্ষেপগুলি বিচারকদের শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে এবং বিচার বিভাগে দুর্নীতির সম্ভাবনা কমানোর দিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
