শেখ হাসিনার আমলে ২০ কিমি মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ২১,৯৮৫ কোটি টাকা, অথচ ইউনুস সরকারের আমলে ১ কিমির জন্য দেখানো হয়েছে ১১,৪৮৬ কোটি। এরপরও দুর্নীতিমুক্ত ঘোষণা! প্রতারণার এই সংস্কৃতি আর কতকাল?
মেট্রোরেল ব্যয়ে বিস্ময়কর ফারাক: দুর্নীতিমুক্ত ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন। বাংলাদেশে অবকাঠামোগত উন্নয়নের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত মেট্রোরেল প্রকল্প আজ দুর্নীতির এক নতুন প্রতীক হয়ে উঠছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন ২০ কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণে খরচ হয়েছিল ২১,৯৮৫ কোটি টাকা, তখন তা প্রশংসিত হয়েছিল যথার্থ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের জন্য। কিন্তু ইউনুস সরকারের আমলে মাত্র ১ কিমি মেট্রোরেল লাইনের জন্য বাজেট বরাদ্দ দেখানো হয়েছে ১১,৪৮৬ কোটি টাকা, যা আপাতদৃষ্টিতে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ও অবিশ্বাস্য।
বাজেটের অস্বাভাবিকতা: ১ কিমিতে ১১ হাজার কোটি!
এ হিসাব অনুযায়ী, ইউনুস সরকারের আমলে ১ কিমি মেট্রোরেল নির্মাণে খরচ হচ্ছে প্রায় ৫৩ গুণ বেশি। অর্থাৎ
১ কিমি = ১১,৪৮৬ কোটি টাকা,
যেখানে পূর্বের হিসাবে
১ কিমি = ১,০৯৯ কোটি টাকা (প্রায়)
এই অস্বাভাবিক ব্যয়ের যৌক্তিক ব্যাখ্যা কোথায়?
দুদকের সার্টিফিকেট: সত্যিই কি শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত?
আরও বিস্ময়ের বিষয় হলো, এই সময়েই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এক বিবৃতিতে জানান, ইউনুস সরকারের প্রশাসন ‘১০০% দুর্নীতিমুক্ত’।
এমন একটি ঘোষণা যখন প্রকাশ পায়, তখন সাধারণ জনগণ শুধু হতবাকই নয়, গভীরভাবে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়। প্রশ্ন জাগে—দুদক এখন কি সরকারের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে?
“বোকা বাঙালির মাথায় টুপি” পরানোর খেলা
এই খরচের বিশাল অঙ্ক আর দুর্নীতিমুক্ত সার্টিফিকেট—দুই মিলে একটি দৃশ্যমান প্রতারণার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। সাধারণ জনগণকে চোখে ধুলো দিয়ে, মিথ্যা তথ্যে আশ্বস্ত করে, অর্থ লুটপাটের পথ তৈরি করা হচ্ছে।
“বাঙালির মাথায় প্রতিদিন টুপি পরাচ্ছেন ইউনুস মহাজন,” — এমন বক্তব্য আজ রাস্তায় রাস্তায় আলোচিত।
📊 তুলনামূলক তথ্যচিত্র (ইনফোগ্রাফিকের জন্য উপযুক্ত):
| সরকার | নির্মাণ ব্যয় | রেললাইন দৈর্ঘ্য | কিমি প্রতি ব্যয় |
|---|---|---|---|
| শেখ হাসিনা | ২১,৯৮৫ কোটি টাকা | ২০ কিমি | ~১,০৯৯ কোটি টাকা |
| ইউনুস সরকার | ১১,৪৮৬ কোটি টাকা | ১ কিমি | ১১,৪৮৬ কোটি টাকা |
