চাঁদাবাজির নতুন কৌশল: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে অর্থ আদায়
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এবার এটি আলোচনায় এসেছে ভিন্ন কারণে—আন্দোলনের আড়ালে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের অভিযোগে। রাজনৈতিক আদর্শের নাম ব্যবহার করে চলা এই আন্দোলন এখন বহু স্থানে পরিণত হয়েছে অর্থ আদায়ের নতুন কৌশলে।
আন্দোলনের নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি
বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনের ব্যানারে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়, ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ, এমনকি শিক্ষক ও প্রশাসনের কাছেও আর্থিক অনুরোধ জানানো হচ্ছে যা কার্যত বাধ্যতামূলক। একাধিক অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘অংশ না নিলে বৈষম্যপন্থী’—এই অপবাদ দিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে।
‘সামাজিক ন্যায়’ এর নামে অর্থনৈতিক সহিংসতা?
নামমাত্র বৈষম্যবিরোধী স্লোগান ব্যবহার করে ছাত্র সংগঠনের কিছু অংশ রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত। সুশৃঙ্খল আন্দোলনের বদলে তৈরি হচ্ছে মব সন্ত্রাস ও অর্থ আদায়ের র্যাকেট। অভিযোগ রয়েছে—সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা না দিলে ক্লাসরুমে বাধা, হোস্টেলে হামলা, এমনকি অনলাইনেও হেনস্তা করা হচ্ছে।
নাগরিকদের উদ্বেগ: আদর্শের নামে দুর্নীতি?
সাধারণ জনগণ ও শিক্ষার্থী অভিভাবক মহলে প্রশ্ন উঠছে—এ কি সত্যিকারের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন, নাকি নতুন ধরনের চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার? রাজনৈতিক আদর্শ ব্যবহার করে যদি অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা হয়, তবে তা গণতন্ত্র নয়, বরং অর্থনৈতিক সহিংসতার নতুন রূপ।
