বাংলাদেশে স্টারলিংক প্রযুক্তির আগমন নিয়ে জনমনে যেমন উচ্ছ্বাস, তেমনি তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন। আন্তর্জাতিকভাবে বিতর্কিত এই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রযুক্তি ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার হওয়ায় একে মার্কিন সামরিক নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে দেখছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। সেই সূত্রেই আশঙ্কা, বাংলাদেশে স্টারলিংক মানেই মার্কিন অস্ত্রের প্রবেশ।
ইউনুস সরকারের চিঠি ও মার্কিন পরিকল্পনার ইঙ্গিত
নোবেলজয়ী ড. ইউনুস এর আগে যুক্তরাষ্ট্রে স্টারলিংকের দ্রুত অনুমোদনের জন্য প্রভাব বিস্তার করেছিলেন বলে জানা যায়। এই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, স্টারলিংকের আগমন শুধু ইন্টারনেটের জন্য নয়, বরং এর মাধ্যমে মার্কিন স্ট্র্যাটেজিক স্বার্থ পূরণ হবে।
বিশেষ করে, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রাখাইন প্রদেশকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে সম্ভাব্য সামরিক কোরিডর। আরাকান আর্মির জন্য বাংলাদেশকে ব্যবহার করে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে—এমনটাই শঙ্কা বিশ্লেষকদের।
ইউক্রেন যুদ্ধ ও স্টারলিংকের ভূমিকা
বিশ্বজুড়ে স্টারলিংক প্রযুক্তির সামরিক ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। ইউক্রেনে জেলেনস্কি বাহিনীকে পরিচালনায় স্টারলিংক ব্যবহার হয়েছে মার্কিন ড্রোন ও কমিউনিকেশন নেটওয়ার্কে। তিন বছরে ৬৬ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধাস্ত্রের নেপথ্য সহায়ক ছিল স্টারলিংক।
বাংলাদেশে একই কৌশল?
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে স্টারলিংক স্থাপন করা মানে শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং মার্কিন সামরিক লজিস্টিক সুবিধা নিশ্চিত করা। রাখাইন ও পার্বত্য এলাকায় এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে স্বাধীনতাকামী বিদ্রোহীদের সহযোগিতা করার আশঙ্কা বাড়ছে।
জনমনে উদ্বেগ
সাধারণ মানুষ অনেক সময় বোঝে না, প্রযুক্তি-নিরপেক্ষতার আড়ালে কী রাজনীতি চলে। কিন্তু এই ঘটনার পেছনে রয়েছে স্পষ্ট জিও-পলিটিকাল এজেন্ডা। অনেকেই বলছেন, সরকার জনগণের সাথে কোনো পরামর্শ ছাড়াই এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলছে।
