বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বহু শিল্পী রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেছেন। তবে “শিল্পীদের রাজনীতি” নিয়ে দেশের দুই প্রধান দলের সমর্থকদের মানসিকতায় রয়েছে এক ধরনের দ্বৈতনীতি।
আসিফ আকবর, শৈশবের প্রিয় শিল্পী, রাজনীতিতে বিএনপির পাশে দাঁড়িয়েছেন। অথচ ছাত্রলীগ বা আওয়ামী কর্মীদের কাছ থেকে কখনোই তার বিরুদ্ধে হুমকি-ধামকি কিংবা হেনস্তার অভিযোগ শোনা যায়নি। এমনকি বেবী নাজনীন, যিনি দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন, তাকেও আওয়ামী লীগের কেউ কখনো অপমান করেনি। গাজী মাজহারুল আনোয়ার, আজীবন বিএনপির ঘনিষ্ঠ, তিনি পেয়েছেন আওয়ামী সরকারের আমলে একুশে পদক।
অন্যদিকে, রিয়াজ, ফেরদৌস, সিদ্দীক, প্রাচীসহ অনেক শিল্পী যখন আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত হন, তখন থেকেই তাদের “দালাল”, “সরকারের দোসর” ইত্যাদি অপবাদ দেওয়া হয়। সিদ্দীককে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনায় মব হামলার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়। অথচ তিনি কখনো ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি।
এ প্রশ্ন এখন তীব্র হয়ে উঠছে—শিল্পীরা যদি বিএনপি করতে পারেন, তাহলে আওয়ামী লীগ করলে দোষ কোথায়?
দুঃখজনকভাবে, আজ যখন আওয়ামীপন্থী শিল্পীরা হামলা ও মামলার মুখোমুখি হচ্ছেন, তখন অনেক শিল্পী এবং সুশীল সমাজ নিরব। ইতিহাস বলছে, এই নিরবতা একদিন বুমেরাং হয়ে ফিরে আসে।
