চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা, একসময় শান্তিপূর্ণ একটি জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে এই অঞ্চল পরিণত হয়েছে সহিংসতার কেন্দ্রবিন্দুতে। অভিযোগ উঠেছে, রাউজান পৌরসভার ৬, ৮ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মঞ্জু ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে সরাসরি এসব হামলার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার মাধ্যমে বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া, মারধর, চাঁদাবাজি এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর মতো ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। লক্ষ্মণের নির্মাণাধীন বাড়িতে হামলা, বিকাশ দাস গুপ্তকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানো এবং নরেশ দাস গুপ্তর বাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর এসব ঘটনার প্রমাণ বহন করে।
🔴 রাষ্ট্রীয় ভূমিকা ও নীরবতা:
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব নৃশংস ঘটনার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। বরং, ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই মিথ্যা মামলা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। এতে করে প্রশ্ন উঠছে—সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা রক্ষায় রাষ্ট্র কতটা আন্তরিক?
বিশ্লেষকরা বলছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে শুধু নির্বাচনের সময় ভোটের জন্য ব্যবহার করে, পরে তাদের নির্যাতনের মুখে ফেলে দেওয়া হলে সেটি কেবল রাজনৈতিক ব্যবস্থার দুর্বলতা নয়, এটি একটি জাতিগত সংকট।
⚠️ বৃহত্তর প্রভাব:
রাউজানে ঘটে যাওয়া এই হামলা নিছক একটি এলাকার ঘটনা নয়। এটি পুরো দেশের সংখ্যালঘু নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্রীয় সুশাসনের প্রশ্ন তুলেছে। ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে এই ধরনের সহিংসতা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের রূপ নিতে পারে।
