সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় প্রতীকের অপমান সংক্রান্ত ধারার বিলুপ্তি রাষ্ট্রীয় চেতনা ও ইতিহাস রক্ষায় ভয়াবহ শৈথিল্যের ইঙ্গিত দেয়।
জি. ইসলাম
📅 প্রকাশিত তারিখ: ৫ মে ২০২৫
বাংলাদেশের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ (সংশোধিত ২০২৫) থেকে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারা চুপিচুপি বাতিল করা হয়েছে—যে ধারায় বলা ছিল, মুক্তিযুদ্ধ, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা নিয়ে বিদ্বেষ ছড়ানো বা কুৎসা রটালে আইনানুগ শাস্তি হবে।
এই পরিবর্তনের মাধ্যমে যেন রাষ্ট্র নিজেই জাতীয় চেতনাবিরোধী অপপ্রচারের দরজা খুলে দিল। প্রশ্ন উঠছে: এটা কি নিছক অবহেলা, না কি এর পেছনে আছে পরিকল্পিত চুপিচাপা চেতনা-ধ্বংসের চক্রান্ত?
🇧🇩 আমাদের অস্তিত্ব যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ
মুক্তিযুদ্ধ আমাদের রাষ্ট্রীয় জন্মের ভিত্তি। বঙ্গবন্ধু হলেন সেই অস্তিত্বের দিশারী। জাতীয় সংগীত ও পতাকা শুধু আনুষ্ঠানিক প্রতীক নয়, এগুলোই আমাদের আত্মপরিচয়, চেতনা ও বিশ্বাসের ভিত্তিমূল।
এই গর্বের জায়গাগুলো এখন আর সুরক্ষিত নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যদি কেউ এখন মুক্তিযুদ্ধকে “মিথ” বা বঙ্গবন্ধুকে “বিভাজনের প্রতীক” হিসেবে প্রচার করে, রাষ্ট্র তা রুখবে না—কারণ, এখন আর সেটা অপরাধ নয়।
💣 কি ধরনের বার্তা দেওয়া হলো সমাজকে?
এই ধারা বাতিল করে রাষ্ট্র যেন বলছে—
"তোমরা চাইলেই মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে ট্রল বানাও, বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করো, জাতীয় পতাকা পোড়াও, জাতীয় সংগীতকে বিকৃত করো—আমরা আর বাধা দেব না।"
এটাই কি সেই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’, যার স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম?
🔥 কাদের জন্য সুবিধা তৈরি হলো?
এই পরিবর্তনে সবচেয়ে লাভবান হবে—
- স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠী
- জঙ্গিবাদী চক্র
- রাজনৈতিক অপপ্রচারকারী ট্রল আর্মি
- ইতিহাস বিকৃতিতে পারদর্শী একদল ‘সুশীল সাইবার সৈনিক’
তারা এখন ধর্মের নামে, মতাদর্শের নামে, কিংবা বিদেশি এজেন্ডার অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর ভাবমূর্তিকে আঘাত করতে পারবে আইনগত শাস্তির ভয় ছাড়াই।
🧠 আইন প্রণেতাদের প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থান
এই ধারা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কি আইনপ্রণেতারা আত্মসমালোচনার প্রয়োজন বোধ করেছেন?
তারা কি নিশ্চিত যে, তারা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার পথে কাজ করছেন?
নাকি তারা একটি চেতনাহীন, ইতিহাস-বিমুখ প্রজন্ম তৈরির ষড়যন্ত্রে মদত দিচ্ছেন?
✊ আমাদের দাবিসমূহ
১. বিলুপ্ত ধারাটি অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে।
২. মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অপপ্রচার চালালে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধান রাখতে হবে।
৩. জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো আইন যেন পাশ না হয়, তা নিশ্চিত করতে সংসদীয় ও নাগরিক পর্যবেক্ষণ গঠিত করতে হবে।
🗣️ আমরা কেন চুপ থাকতে পারি না?
আমরা ইতিহাসের পক্ষের লোক।
আমরা জানি, জাতিকে আত্মপরিচয়বিচ্যুত করে কখনো উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তাই এই আইন পরিবর্তনের বিরুদ্ধে আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
আমরা রাষ্ট্রকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই— একটি জাতি তার ইতিহাস ভুললে, ভবিষ্যতও হা
