নিউজ রিপোর্ট:
“আমাদের এখানে ৯৯% শিক্ষিত মানুষ রাজনৈতিকভাবে মূর্খ ও অশিক্ষিত।” — এই কথাটির তাৎপর্য আজ আরও প্রকট হয়ে উঠছে যখন আমরা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পেছনের বাস্তবতা বিশ্লেষণ করি এবং আমাদের নিজেদের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রতিফলন দেখি।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে। একদিকে রাশিয়া তার দাবিকৃত কিছু ভূমি অর্জন করেছে—যা তাদের জন্য কৌশলগত জয়, যদিও এর জন্য তাদেরও মূল্য দিতে হয়েছে। অন্যদিকে, আমেরিকা যুদ্ধটিকে কাজে লাগিয়ে একটি বিরল কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সফলতা অর্জন করেছে। তারা ইউক্রেনের বিরল খনিজ সম্পদের অংশীদার হয়েছে এবং অস্ত্র বিক্রির মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছে।
ইউরোপ হয়েছে এই খেলায় মাধ্যম মাত্র। তারা পেয়েছে চাপ, উদ্বাস্তু সংকট, ও অর্থনৈতিক মন্দা। আর ইউক্রেন? তাদের শস্যভাণ্ডার ধ্বংস হয়েছে, অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে, বিশাল জনগোষ্ঠী প্রাণ হারিয়েছে বা আহত হয়েছে, এবং তারা ঋণের ফাঁদে আটকা পড়েছে। তরুণরা যুদ্ধে না গিয়ে ইউরোপে উদ্বাস্তু হয়েছে, যারা দেশে ছিল তারা হারিয়েছে ভবিষ্যৎ।
এই ঘটনার প্রতিফলন এখন আমাদের অঞ্চলেও দেখা যাচ্ছে। আমাদের দেশে নেই ইউক্রেনের মতো বিরল খনিজ সম্পদ, কিন্তু আছে একটি ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। সেই অঞ্চলকে ঘিরেই আন্তর্জাতিক কৌশল, ভেতরের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মূর্খ শিক্ষিতদের জ্ঞানচর্চার অভিনয় চলছে।
সবচেয়ে দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—যেখানে অশিক্ষিত মানুষ রাজনীতিতে আগ্রহী, কিন্তু ভূমিকা রাখতে পারে না; সেখানে শিক্ষিতদের বড় অংশ রাজনীতি নিয়ে মূর্খতা ও আবেগে ভোগে। আর এর ফলেই গড়ে ওঠে এক বিভ্রান্ত রাজনৈতিক বাস্তবতা, যার পরিণতি হতে পারে ইউক্রেনের মতোই বিপর্যয়।
