আদালতের রায় ও নির্বাচন কমিশনের গেজেটের পরও ঢাকা দক্ষিণের মেয়রের দায়িত্ব পাননি ইশরাক হোসেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নীরবতায় উত্তপ্ত নগর ভবন, বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নগর ভবনে টানা তিন দিনের অবস্থান কর্মসূচিতে উত্তেজনা চরমে। উচ্চ আদালতের রায় এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেট সত্ত্বেও এখনো বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ায়, ‘ঢাকাবাসী’ প্লাটফর্মের ব্যানারে বিক্ষোভ করছেন তার সমর্থকেরা।
শনিবার (১৭ মে) নগর ভবনের সামনেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীকে “অবাঞ্ছিত” ঘোষণা করা হয়।
📜 আদালতের রায় ও নির্বাচন কমিশনের গেজেট: তারপরও পদক্ষেপহীন সরকার?
২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হলেও, তা চ্যালেঞ্জ করে বিএনপির ইশরাক হোসেন আদালতের দ্বারস্থ হন।
প্রায় পাঁচ বছর পর, ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ, প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল সেই নির্বাচনকে বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে বৈধ মেয়র ঘোষণা করেন।
এরপর ২৭ এপ্রিল ইসি গেজেট প্রকাশ করে তাকে মেয়র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
কিন্তু আজও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় কোনো শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজন করেনি।
এই দেরিকে বিরোধীরা বলছেন "আইনের স্পষ্ট অবমাননা।"
🗣️ “অবাঞ্ছিত” ঘোষণা ও হুঁশিয়ারি
'ঢাকাবাসী' প্লাটফর্মের নেতৃত্বে থাকা সাবেক সিনিয়র সচিব মশিউর রহমান সাংবাদিকদের জানান—
- উপদেষ্টা ও সচিব নগর ভবনে অবাঞ্ছিত
- যেখানে পাওয়া যাবে, “সেখানে প্রতিহত করা হবে”
- দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবে
এ ধরনের হুঁশিয়ারি নগর রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
🏛️ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিরোধ?
এই মামলার পেছনে রাজনৈতিক অনীহা, প্রশাসনিক স্থবিরতা ও বিরোধী রাজনীতির প্রতি প্রতিকূল মনোভাব কাজ করছে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের।
- মন্ত্রণালয়ের নিরবতা কি ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব?
- আদালতের রায় বাস্তবায়ন করতে ইসি গেজেট যথেষ্ট নয়?
- শপথ না করালে কি আদালত অবমাননার অভিযোগ উঠবে?
এগুলো এখন দেশের রাজনৈতিক ও আইনি মহলে প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে।
🧩 দ্বৈত প্রশাসনিক কাঠামো?
ডিএসসিসির নগর ভবনের একটি অংশে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অস্থায়ী দপ্তর রয়েছে। এখানেই উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সাধারণত কাজ করেন। কিন্তু বিক্ষোভের কারণে গত কয়েক দিন নগর ভবনে যাননি তিনি।
🔎 বিশ্লেষণ: এটি কি নতুন এক সাংবিধানিক সংকট?
এই পরিস্থিতি ঘিরে শুরু হয়েছে নানা প্রশ্ন:
- একটি আদালতের চূড়ান্ত রায়কে উপেক্ষা করা কি সাংবিধানিক লঙ্ঘন নয়?
- গেজেট প্রকাশের পরও দায়িত্ব হস্তান্তর না করা কি প্রশাসনিক ব্যর্থতা?
- বিরোধী দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিকে দায়িত্ব না দিয়ে কি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে?
রাষ্ট্রযন্ত্রের নিরবতা এখানে গণতন্ত্রের আস্থার জন্যই এক বড় পরীক্ষার মুখোমুখি।
যেখানে আদালত রায় দিয়েছে, যেখানে গেজেট জারি হয়েছে, সেখানে রাজনৈতিক অজুহাতে একজন নির্বাচিত প্রতিনিধিকে দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত করা জনগণের রায়ের প্রতি চরম অবহেলা।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির এই অবস্থা কেবল একটি নগর প্রশাসনের প্রশ্ন নয়, এটি বাংলাদেশের আইনের শাসন, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের প্রতিচ্ছবি।
সময় থাকতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় রায় বাস্তবায়নে উদ্যোগ না নিলে, এই সংকট আরও গভীর ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
