পতিতালয় ও হাউজি থেকে টাকা তুলে আত্মসাৎ, ত্রাণের অর্থের নয়-ছয়সহ নানা দুর্নীতির অভিযোগে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটির ১৬ সদস্য পদত্যাগ করেছেন।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নামে প্রতিষ্ঠিত সংগঠনের ভেতরে বিস্তর দুর্নীতি, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এবার রংপুর জেলা ও মহানগরের ১৬ সদস্যের সম্মিলিত পদত্যাগের ঘটনা দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় তুলেছে।
এই পদত্যাগের কারণ হিসেবে যেসব অভিযোগ সামনে এসেছে, তা শুধু লজ্জাজনকই নয়, বরং ছাত্র রাজনীতিকে কলঙ্কিত করার মতো ঘটনা। অভিযোগের বিবরণ থেকে জানা যায়—
🧾 মূল অভিযোগসমূহ:
💰 হাউজি জুয়া থেকে ১৪ লক্ষ টাকা উত্তোলন:
রংপুরে সংগঠনের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব হাউজি ঘাঁটি থেকে সংগঠনের নামে ১৪ লক্ষ টাকার জুয়া টাকা সংগ্রহ করেছেন এবং তার কোনো হিসাব নেই।
🚨 ত্রাণের টাকায় নয়-ছয়:
বন্যা, শীতবস্ত্র এবং সাধারণ ত্রাণ বিতরণের সময় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলা কমিটির কিছু সদস্য বলছেন, তারা নিজেরা চাঁদা তুলেও সেসবের কোনো ব্যয় বিবরণ পাননি।
💃 পতিতালয় থেকে অর্থ সংগ্রহ ও আত্মসাৎ:
সবচেয়ে ন্যক্কারজনক অভিযোগটি হলো—রংপুর শহরের কিছু পতিতালয় থেকে “অনুদান” বা চাঁদা তোলার মাধ্যমে সংগঠনের অর্থ জোগাড় করা হয়েছে, যা ছাত্র রাজনীতির নীতিগত অবস্থানকে চরমভাবে কলুষিত করেছে। আরও অভিযোগ, সংগঠনের শীর্ষ নেতারা এই টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
📉 রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া:
এই ঘটনায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুদ্ধতাবাদী ভাবমূর্তি চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এক সময় যারা রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার দাবি করত, আজ তাদের বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারি, পতিতালয় সংশ্লিষ্টতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধু একটি সংগঠনের পতন নয় বরং ছাত্র আন্দোলনের আদর্শের ওপর সরাসরি আঘাত।
📣 পদত্যাগকারী নেতাদের বক্তব্য:
পদত্যাগকারী ১৬ জন নেতার লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে—
“আমরা বিশ্বাস করতাম একটি আদর্শিক সংগঠনে কাজ করছি। কিন্তু বাস্তবে সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব অর্থ আত্মসাৎ, অশ্লীল উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। আমাদের নৈতিকতার জায়গা থেকে এই সংগঠন থেকে সরে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।”
⚠️ প্রস্তাবিত ব্যবস্থা ও অনুসন্ধান দাবি:
সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতারা এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের ভাষায়,
“এমন কলঙ্কজনক ঘটনায় শুধু পদত্যাগ নয়, দরকার অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা।
