দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গি উত্থান সেনাবাহিনীর জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। সীমান্ত ছাড়িয়ে এখন সাইবার ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলছে জঙ্গি কার্যক্রম।
বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় জঙ্গিবাদের নতুন করে উত্থান শুধু অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, এটি এখন আন্তর্জাতিক পরিসরেও সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তি, বৈশ্বিক ধর্মীয় উগ্রবাদ ও দুর্বল রাষ্ট্রীয় নীতির সুযোগে এই জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো আরও সুসংগঠিত হয়ে উঠছে। তাদের কার্যক্রম এখন সীমান্ত পেরিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলছে। এতে শুধু বাংলাদেশ নয়, ভারত, মিয়ানমার, এমনকি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দায়িত্ব বহুমাত্রিক হয়ে উঠেছে। সীমান্ত পাহারা দেওয়ার পাশাপাশি এখন তাদেরকে সাইবার স্পেস, নাগরিক সমাজে চরমপন্থার প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণের দায়িত্বও নিতে হচ্ছে। এতে বাহিনীটি অতিরিক্ত চাপে পড়ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে এটি সামরিক প্রস্তুতির ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম। নিরাপত্তা খাতকে রাজনীতির বাইরে রেখে, সার্বজনীন নিরাপত্তা কৌশল রূপায়নের এখনই উপযুক্ত সময়। অন্যথায় জঙ্গি উত্থান শুধু রাষ্ট্র নয়, গোটা অঞ্চলের ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
