চীনের কৌশলগত আগ্রাসন ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য সুদারু ইউনুস সরকারের সহায়তায় বাংলাদেশে বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাষ্ট্রযন্ত্রে চীনের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।
নিজস্ব প্রতিবেদক: স্বপ্নীল আর্য;
বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন বলে দাবি করা তথাকথিত সুদারু ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ উঠেছে যে, তাদের প্রত্যক্ষ মদদে দেশটিতে চীনের প্রভাব ও আধিপত্য দিন দিন বাড়ছে।
বিশেষ করে ড্রোন আর্ট কর্মশালা, অর্থনৈতিক চুক্তি, উন্নয়ন প্রকল্পে একচেটিয়া অংশগ্রহণ, এবং নতুন প্রজন্মকে চীনা প্রযুক্তির প্রশিক্ষণে নিয়োজিত করা— এসবকে অনেকে চীনের সাংস্কৃতিক কৌশলগত আগ্রাসনের অংশ হিসেবে দেখছেন।
চীনের প্রভাব বিস্তারে নতুন অধ্যায়:
সম্প্রতি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং চীন দূতাবাসের যৌথ উদ্যোগে যে ড্রোন আর্ট প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে, সেটিকে শুধু শিল্পচর্চা নয়, বরং “প্রজন্মগত প্রভাব বিস্তারের সফট পাওয়ার অস্ত্র” হিসেবে চিহ্নিত করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ও সংস্কৃতির মোড়কে চীন কৌশলে বাংলাদেশে তার রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক প্রভাব বিস্তারের পথ তৈরি করছে।
রাষ্ট্রযন্ত্রে ‘চীন ঘেঁষা’ নীতি:
যারা সরকারকে “সুদারু ইউনুস নেতৃত্বাধীন একটি অবৈধ ও দুর্নীতিপরায়ণ দখলদার সরকার” হিসেবে চিহ্নিত করছেন, তাদের দাবি, এই সরকার চীনের একনিষ্ঠ ‘সেবাদাস’ হয়ে কাজ করছে। এমনকি জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চীনা প্রযুক্তির অতি-নির্ভরতাকে সার্বভৌম হুমকি হিসেবে দেখছেন অনেকে।
সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা যেগুলো এই অভিযোগকে ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে:
- চীন-সহায়িত ড্রোন ট্রেনিং প্রোগ্রাম, যেখানে বাংলাদেশের তরুণদের চীনে পাঠানো হচ্ছে।
- পোশাক, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো খাতে একচেটিয়া চীনা বিনিয়োগ।
- প্রতিরক্ষা সরঞ্জামে চীনা নির্ভরতা এবং সাইবার প্রযুক্তিতে গোপন সংযোগ।
উদ্বেগ ও সতর্কবার্তা:
জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, চীনের এই প্রভাব ভবিষ্যতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি, অভ্যন্তরীণ আইন ও শিল্পনৈপুণ্যেও পরোক্ষ হস্তক্ষেপ ঘটাতে পারে।
একজন বিশ্লেষক বলেন:
“যখন একটি সরকার নিজেকে টিকিয়ে রাখতে বিদেশি শক্তির কাঁধে ভর দেয়, তখন সেই দেশ আর স্বাধীন থাকে না—সে হয় উপনিবেশ।”
সুদারু ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে চীনের প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এখন আর কেবল রাজনৈতিক বক্তৃতায় সীমাবদ্ধ নেই। প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, সংস্কৃতি, প্রযুক্তি ও তরুণ প্রজন্মকে কেন্দ্র করে এই প্রভাব দৃশ্যমান।
এই পরিস্থিতি কতদূর যেতে পারে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় পরিচয়ে কতটা প্রভাব ফেলবে—তা নিয়ে ভবিষ্যৎ অনেক বড় প্রশ্নচিহ্ন বহন করছে।
