আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয় Air India’র AI-171 ফ্লাইট। বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারে ছিলেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানিও। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির শঙ্কা।

আজ, ১২ জুন ২০২৫, ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদে ঘটে গেল এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা। এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট AI-171, একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার, দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়। গন্তব্য ছিল লন্ডন, কিন্তু আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু করা বিমানটি আছড়ে পড়ে আহমেদাবাদের মেঘানিনগর এলাকার এক আবাসিক ভবনে।
বিমানটিতে যাত্রী ছিলেন প্রায় ২৫০ জন, যাদের মধ্যে ছিলেন গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানি। এই তথ্য ইন্ডিয়া টাইমস ও ইকোনমিক টাইমসের লাইভ আপডেটে নিশ্চিত করা হয়।
আহত ও নিহতের সংখ্যা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ না হলেও, পরিস্থিতি থেকে অনুমান করা যায় যে বিপর্যয়টি বিরাট পরিসরের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিমানটি রানওয়ে থেকে উঠেই অস্বাভাবিকভাবে নিচে নামতে শুরু করে এবং মেঘানিনগরে একটি বহুতল ভবনের ওপর সজোরে আছড়ে পড়ে। মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে ঘন কালো ধোঁয়া ও ভয়াবহ আগুন।

দুই ডজনের বেশি অ্যাম্বুলেন্স ও দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। যান্ত্রিক ত্রুটি না অন্য কোনো কারণ— তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এয়ার ইন্ডিয়া ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
এয়ার ইন্ডিয়া একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, “আমাদের ফ্লাইট AI-171 আজ একটি গুরুতর দুর্ঘটনায় পতিত হয়েছে। আমরা দুঃখিত এবং এখনো বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছি। যাত্রীদের পরিবারের পাশে আমরা রয়েছি।”
তবে প্রশ্ন থেকে যায়— এতো বড় একটি যান্ত্রিক ইউনিট কীভাবে এত দ্রুত ধসে পড়ল? মাত্র কিছু সময় আগে সফলভাবে চেক-আপ পাশ করে আকাশে ওড়া একটি বিমান কীভাবে এত দ্রুত নিয়ন্ত্রণ হারাল?
এই ঘটনায় সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানির উপস্থিতি এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যে তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে এই দুর্ঘটনার প্রভাব পড়বে নিশ্চিতভাবেই।

এই দুর্ঘটনা এয়ার ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা প্রটোকল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার একটি উন্নত প্রযুক্তির বিমান হলেও পূর্বেও কিছু যান্ত্রিক সমস্যার কারণে আলোচনায় এসেছে।
প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের বিমান চলাচল ব্যবস্থা সহ উপমহাদেশজুড়ে কি আদৌ পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হয়?
এই দুর্ঘটনা কেবল একটি মর্মান্তিক ঘটনা নয়, এটি একটি সতর্ক সংকেত। শুধু প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, প্রতিটি বিমানের ওড়ার আগে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে হবে। ভারতে এবং উপমহাদেশে বিমান পরিবহন খাত যেন ব্যবসায়িক লাভের বাইরে মানবিক নিরাপত্তাকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়— এই দাবি এখন সময়ের দাবি।
