একুশে পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ ড. শামসুল আলমকে গ্রেপ্তার করলো ইউনূস প্রশাসন। মেধার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতি নাকি রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের নতুন অধ্যায়? বিশ্লেষণ করলেন বিশেষ প্রতিবেদক।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা-উত্তর অর্থনীতির ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, একুশে পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ ও সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী প্রফেসর ড. শামসুল আলম। আজ তাঁকে দেখা যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হিসেবে। ইউনূস প্রশাসনের পুলিশ বাহিনী তাঁকে তুলে নিয়ে গেছে, যাকে অনেকেই বলছেন ‘মেধার বিরুদ্ধে এক নির্মম যুদ্ধের সূচনা’।
এই ঘটনা শুধু একজন ব্যক্তির গ্রেপ্তারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়—এটি একটি বিপজ্জনক রাষ্ট্রীয় বার্তা: “যারাই অতীতে দায়িত্ব পালন করেছে, যাদের হাত ধরে জাতি গড়েছে, তাদের আজ হয় নিঃশব্দ হতে হবে, নয়তো জেল খাটতে হবে।”
এক নজরে তাঁর গৌরবময় পরিচয় ও অবদান—
🔹 ৩৫ বছর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা (১৯৭৪–২০০৯)
🔹 ১২টি গ্রন্থ অর্থনীতির উপর রচনা
🔹 ১৮টি সম্পাদিত বই এবং ৪৮টি গবেষণা প্রতিবেদন
🔹 জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশি কনসালটেন্ট হিসেবে দায়িত্ব
🔹 একুশে পদকপ্রাপ্ত, অর্থনীতিতে জাতীয় অবদানস্বরূপ
🔹 ২০৪১ ভিশনের রূপকার হিসেবে জাতীয় পরিকল্পনার পথনির্দেশনা দিয়েছেন
🔹 আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন
এমন একজন ব্যাক্তিকে গ্রেপ্তার করার অর্থ শুধুই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, এটি দেশের মেধা ও জ্ঞানের অবমূল্যায়নের ভয়ানক নিদর্শন।
বর্তমান সময়ের বিতর্কিত প্রশাসন—যাকে বিরোধীরা বলছে “ইউনূসের দখলদার সরকার”—ধীরে ধীরে একটি ‘মেধাশূন্য অথচ দমনমূলক’ শাসনের রূপ নিচ্ছে। যারা অতীতে রাষ্ট্র গঠনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন, তাদের একে একে হয় বিতর্কিত করা হচ্ছে, নয়তো তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এটি কেবল সরকারের অবজ্ঞা নয়; এটি দেশের ভবিষ্যৎ নীতি-পরিকল্পনার উপর সরাসরি আঘাত।
একুশে পদকপ্রাপ্ত একজন অর্থনীতিবিদকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে গ্রেপ্তার করা হলে, সেটি শুধুই এক ব্যক্তির অপমান নয়—তা গোটা জাতির আত্মমর্যাদার ওপর আঘাত।
একদিকে আপনি একজন ব্যক্তি যিনি একুশে পদকপ্রাপ্ত, জাতীয় বাজেট কাঠামোর প্রধান স্তম্ভের স্থপতি, রাষ্ট্রনায়কসুলভ নীতির রূপকার। অন্যদিকে আপনি পাচ্ছেন এক প্রশাসন যারা ‘গণতন্ত্রের’ নামে দমন-পীড়নের দ্বারস্থ।
এই দুই চিত্র কীভাবে একসঙ্গে মানায়?
বিশ্লেষকদের মতে, শামসুল আলমের গ্রেপ্তার একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করছে। অতীত সরকার বা আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে কেউ, যিনি কখনো রাষ্ট্রীয় নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন, তিনিই আজ ভয়ের মাঝে দিন কাটাচ্ছেন।
রাজনৈতিক প্রতিশোধ যদি একুশে পদকপ্রাপ্তদের জেলে পাঠানোর মাধ্যম হয়, তাহলে সেই রাষ্ট্র কতটা ‘গণতান্ত্রিক’ বা ‘সুশাসনময়’, তা ইতিহাসই নির্ধারণ করবে। আমরা বিশ্বাস করি—মেধা, গবেষণা, শিক্ষা ও দেশপ্রেম কোনো রাজনৈতিক সরকারের সম্পত্তি নয়; এটি জাতির। তাই যিনি জাতির জন্য কাজ করেছেন, তাঁকে সম্মান না দিয়ে দমন করার মানসিকতা একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য আত্মঘাতী।
ড. শামসুল আলমকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। ইউনূস প্রশাসনের প্রতিহিংসার রাজনীতি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশকে মেধাহীন রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।
