শহীদ মিনার ও দোয়েল চত্বর এলাকায় অস্ত্র ঠেকিয়ে আড়াই লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ঢাবি এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। তদন্তে নেমেছে পুলিশ, উঠছে নিরাপত্তা ব্যবস্থার জবাবদিহিতা
রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রস্থল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এমন একটি ঘটনা যেন রীতিমতো চমকে দিয়েছে নগরবাসীকে। শহীদ মিনার ও দোয়েল চত্বরের মাঝখানে—যেখানে দিনের বেলায় হাজারো মানুষের চলাচল, আশপাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত উপস্থিতি থাকার কথা—সেখানেই ঘটেছে এক ভয়াবহ অস্ত্রের মুখে ছিনতাইয়ের ঘটনা।
ভুক্তভোগী মানিক মিয়া, একজন ঠিকাদার এবং ডলার কেনাবেচার ব্যবসায়ী, বুধবার দুপুরে মতিঝিল থেকে নগদ অর্থ নিয়ে রিকশাযোগে ফিরছিলেন। শহীদ মিনার ও দোয়েল চত্বরের মাঝামাঝি পয়েন্টে ৩-৪ জন দুর্বৃত্ত তার রিকশার পথরোধ করে অস্ত্র দেখিয়ে ছিনিয়ে নেয় নগদ আড়াই লাখ টাকা।
মানিক মিয়ার শ্যালক শাহ আলম জানান, “দুলাভাইকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে টাকা ছিনিয়ে দ্রুত সরে পড়ে ছিনতাইকারীরা। তারা বলেছিল, দেরি করলে খুন করে ফেলবে।”
শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মনোজ প্রভাকর রায় জানান, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে দুঃখজনকভাবে ঘটনাস্থলের আশপাশে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা নেই। পুলিশ অন্য উপায়ে ছিনতাইকারীদের শনাক্তে কাজ করছে এবং প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে, মানিক মিয়াকে মতিঝিল থেকেই অনুসরণ করা হচ্ছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনের কেন্দ্র। এটি শুধু শিক্ষার নয়, নিরাপত্তারও প্রতীক। কিন্তু দিনেদুপুরে অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—বিশ্ববিদ্যালয় ও তার আশপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাটি আদৌ কার্যকর কিনা?
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—যেখানে ঢাবির মতো জায়গায় এই ঘটনা ঘটে, সেখানে বাকিদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা কীভাবে দেওয়া যাবে?
এই ঘটনায় জনমনে ক্ষোভ ও ভয়ের সঞ্চার হয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছে, ঢাকা শহরে চুরি-ছিনতাই এখন আর গভীর রাতে নয়, দিবালোকেই ঘটছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা, সিসিটিভি, মোবাইল টহল এবং জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া এই ধরনের অপরাধ থামানো সম্ভব নয়।
দোয়েল চত্বর ও শহীদ মিনার শুধু একটি লোকেশন নয়—এটি আমাদের জাতির ইতিহাস, শিক্ষার কেন্দ্র, নিরাপত্তার প্রতীক। সেখানে অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকা ছিনতাই শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, বরং পুরো রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে অপমান করেছে।
পুলিশকে দ্রুত ছিনতাইকারীদের ধরতে হবে এবং এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে—এই দাবিই এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে।
