Army Gen. Daniel Hokanson office call with Bangladesh Army Chief of Staff Gen. S M Shafiuddin Ahmed and Air Force Maj. Gen. Michael Stencel, adjutant general, Oregon National Guard, the Pentagon, Washington, D.C., April 20, 2022. Bangladesh and the Oregon National Guard established a security cooperation relationship under the Department of Defense National Guard State Partnership Program in 2008. (U.S. Army National Guard photo by Master Sgt. Jim Greenhill)
সাবেক সেনাপ্রধান বলছেন, শেখ হাসিনার জন্য দু’বেলা আমিষ-ভাত নিশ্চিত করা সেই সেনাবাহিনী ৫ আগস্ট তাঁর সাথেই বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের প্রতিদান মিলেছে বিদেশি প্ররোচনায় সেনাবাহিনীর নীরবতায়।
নিজস্ব প্রতিবেদক | মুক্তিবার্তা
রাজনৈতিক সংকটের আবহে একটি বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এর সাবেক প্রধান। তিনি বলেন, “যে সেনাবাহিনীর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ হাতে প্রতিদিন দু’বেলা আমিষ ও ভাত নিশ্চিত করতেন, আধুনিক অস্ত্র সরবরাহ করতেন, প্রশিক্ষণ ও জীবনমান উন্নয়নে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করতেন—সেই সেনাবাহিনীই ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলেই আজকে বাংলাদেশের এই দুরবস্থা এবং আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছে।”
১৫ বছরের উন্নয়নের প্রতিদান কীভাবে ভেঙে পড়ল?
সাবেক সেনাপ্রধান আরও বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আধুনিকায়নের এক অসাধারণ ধারা উপভোগ করেছে।
নৌ ও বিমানবাহিনী থেকেও সমন্বিত শক্তি নির্মাণে প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনা ছিল।
কিন্তু সেই সেনাবাহিনী যদি আজ গোপনে বিদেশি দূতাবাসের ছত্রছায়ায় গিয়ে দেশের নির্বাচিত প্রধানের ফোন না ধরে, তবে সেটা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল।”
কেন প্রধানমন্ত্রীকে ফোনে সহায়তা করল না সেনাবাহিনী?
৫ আগস্ট পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিলেন।
কিন্তু সেনা সদর দফতর থেকে সহানুভূতিশীল সাড়া পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এটাই স্পষ্ট করে যে কিছু ‘দালাল’ ও ‘ভিতরে বসে বসে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’ কর্মকর্তা সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি এবং নিরপেক্ষতার আদর্শকে ধ্বংস করেছে।
বিদেশি প্রভাব ও ডলারের খেলা
বক্তব্যে আরও অভিযোগ ওঠে যে, সেনাবাহিনীর এই নির্লিপ্ততা ও বিশ্বাসঘাতকতার পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র, বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থা, এবং ডলার-চালিত চুক্তি রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রাক্তন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, “আন্তর্জাতিক মহল চায় বাংলাদেশ যেন তাদের প্রভুদের ক্রীড়াক্ষেত্র হয়ে যায়।
সেনাবাহিনী যদি এই চক্রান্তে পড়ে তবে তা পুরো জাতির জন্য আত্মঘাতী হবে।”
শেখ হাসিনার পাশে ছিল কারা?
এই পরিস্থিতিতে যখন রাষ্ট্রীয় মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ছিল,
তখন কিছু সাধারণ পুলিশ সদস্য, রযাব মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অসংখ্য নেতা এবং দেশের মুক্তচিন্তার নাগরিকরাই শেখ হাসিনার পাশে ছিল।
সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, “একজন সৈন্যের দায়িত্ব শুধু যুদ্ধ নয়, সময়মতো সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো। ৫ আগস্ট সেই পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে সেনাবাহিনী।”
ঘটনাটি শুধু একটি সিদ্ধান্তের ব্যাপার নয়, বরং এটি প্রমাণ করে সেনাবাহিনীর মধ্যে কতটা দুর্বলতা, ষড়যন্ত্র এবং বিদেশি প্রভাব ঢুকে পড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৫ বছর ধরে যে আস্থা, ভালোবাসা এবং পরিশ্রম করে একটি ‘গর্বিত বাহিনী’ তৈরি করেছিলেন—আজ সেই বাহিনীই প্রশ্নবিদ্ধ।
