সাংবাদিক মাসুদ কামাল প্রশ্ন তুলেছেন দৈনিক জনকণ্ঠের ‘ফ্যাসিবাদমুক্তকরণ’ আদৌ কি ন্যায্য, না এটি একটি পরিকল্পিত জবরদখল? এনসিপি-বিএনপি-জামায়াত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে নতুন বিতর্ক।
বাংলাদেশের অন্যতম পুরনো ও পরিচিত জাতীয় দৈনিক দৈনিক জনকণ্ঠ বর্তমানে এক অস্বাভাবিক ও বিতর্কিত পরিস্থিতির মুখোমুখি। শনিবার (৩ আগস্ট) হঠাৎ করেই পত্রিকার ওয়েবসাইটে সম্পাদকীয় লাইন পরিবর্তিত হয়ে যায়, সেখানে আর সম্পাদক বা প্রকাশকের নাম নেই। এর পরিবর্তে লেখা হয়—“সম্পাদক মণ্ডলী”। একটি নিউজ শিরোনামে ঘোষণা আসে—“ফ্যাসিবাদমুক্ত করা হয়েছে জনকণ্ঠ”।
এতটুকু পড়েই পাঠকের চোখ কপালে তোলার যথেষ্ট কারণ আছে।
কিন্তু এই ঘোষণার পেছনের ঘটনাবলি আরও বেশি উদ্বেগজনক এবং জটিল।
বর্ষীয়ান সাংবাদিক মাসুদ কামাল, যিনি জনকণ্ঠের সঙ্গে ১২ বছর কর্মজীবন কাটিয়েছেন, বিষয়টিকে দেখে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মাসুদ কামাল লিখেছেন—
“কোনো পত্রিকা যদি ফ্যাসিবাদের দোসর হয় বা অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তার বিচারের জন্য তো দেশের আইন-আদালত রয়েছে।
কিন্তু সেটা না করে হঠাৎ পরিচালনা বোর্ড গঠন করে পত্রিকা দখল করে নেওয়া—এটা কোন আইনের অধীনে হয়?”
তিনি আরও বলেন, পত্রিকাটির অনলাইনে গিয়ে দেখতে পান,
প্রিন্টার্স লাইন পাল্টে গেছে।
প্রশ্ন তোলেন—এই ‘সম্পাদক মণ্ডলী’ কারা?
তিনি ইঙ্গিত দেন, এনসিপি, বিএনপি ও জামায়াত সংশ্লিষ্ট একটি শক্তি হয়তো এর পেছনে রয়েছে।
জনকণ্ঠ পত্রিকার মালিকপক্ষ আওয়ামী লীগের শোকাবহ আগস্ট মাস উপলক্ষে ব্যানার লাল থেকে কালো করেন।
এতে আপত্তি জানানোয় প্রায় ২০ জন সাংবাদিককে ছাঁটাই করা হয়, এমনটাই দাবি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক রিপোর্টে।
তার প্রতিবাদে বাকি কর্মীরা সংবাদ প্রচার বন্ধের ঘোষণা দেন।
এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাতেই প্রকাশিত হয় নতুন আরেক প্রতিবেদন—“ফ্যাসিবাদমুক্ত করা হয়েছে জনকণ্ঠ।”
সেখানে বলা হয়, এখন থেকে একটি ৬ সদস্যবিশিষ্ট সম্পাদকীয় বোর্ড পত্রিকাটি চালাবে।
জনকণ্ঠ একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন পত্রিকা।
সে ক্ষেত্রে কোনো দল বা গোষ্ঠী যদি মালিকের অনুমতি বা আদালতের নির্দেশ ছাড়া সম্পাদনা কাঠামো ও প্রচার নিয়ন্ত্রণ নেয়—তা সরাসরি জবরদখলের পর্যায়ে পড়ে।
গণমাধ্যম স্বাধীনতার যে কাঠামো, সেটি এতে লঙ্ঘিত হচ্ছে কিনা, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন অনেক বিশিষ্ট সাংবাদিক ও গণমাধ্যম বিশ্লেষক।
মাসুদ কামাল তার স্ট্যাটাসে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করছেন এবং আগামীকাল একটি ভিডিও কন্টেন্ট প্রকাশ করবেন।
এতে প্রকৃত পরিস্থিতি, কে বা কারা পেছনে আছেন, তা নিয়ে বিশ্লেষণ উঠে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দৈনিক জনকণ্ঠের ‘ফ্যাসিবাদমুক্তকরণ’ ঘটনাটি বাংলাদেশের গণমাধ্যম ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হতে পারে।
এটি কি গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে রাজনীতিকরণ বিরোধী আত্মরক্ষা?
নাকি ভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের গোপন কৌশলে একটি মিডিয়া হাউজ দখল করে নেওয়ার কাহিনি?
সাংবাদিক সমাজ এবং সচেতন পাঠকদের এখনই প্রশ্ন তুলতে হবে—এটা কি গণতন্ত্রের নাম করে একপ্রকার গণমাধ্যম দখলদারি?
