ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের গোপন চুক্তিতে বাংলাদেশ চীন-রাশিয়ার সামরিক সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে। এই কলামে বিশ্লেষণ করা হয়েছে কীভাবে শুল্ক ছাড়ের বিনিময়ে বিক্রি হয়ে গেলো দেশের সার্বভৌমত্ব।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এক ভয়াবহ বিশ্বাসঘাতকতা ঘটেছে, যার নায়ক একজন অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান—ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কোনো গণভোট, কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি কিংবা কোনো জনসমর্থন ছাড়াই তিনি যে গোপন চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন, তা সরাসরি দেশের সামরিক নিরাপত্তা, কূটনৈতিক ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জ করেছে।
ড. ইউনূস কেবল এক অর্থনীতিবিদ বা নোবেলজয়ী নন—তিনি এখন একটি অস্বচ্ছ রাজনৈতিক প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু।
যেখানে গণতন্ত্রের মুখোশ পরে কার্যত একটি মার্কিনপন্থী গভীর রাষ্ট্র (Deep State) কর্তৃক পরিচালিত শাসনব্যবস্থা চলছে।
বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক আলোচনার ফাঁকে, এই অন্তর্বর্তী সরকার এমন একটি “নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট”-এ স্বাক্ষর করেছে যার মাধ্যমে বাংলাদেশ চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা লেনদেন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।
বিনিময়ে পেয়েছে সামান্য কিছু শুল্ক ছাড় ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ কিছু বাণিজ্যিক সুবিধা।
সরকারি ভাষ্যে বলা হচ্ছে, শুল্ক ৩৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে শুল্ক হার এখনো ৩৬.৫ শতাংশেই রয়ে গেছে।
এই বিভ্রান্তির পেছনে আছে এক গভীর ষড়যন্ত্র—যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সঙ্গে এমন এক পক্ষপাতদুষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যেখানে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে চীন ও রাশিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম কেনার বিষয়ে।
এর ফলে বাংলাদেশ তার অস্ত্র, গোলাবারুদ, যন্ত্রাংশ এবং সামরিক সহায়তার প্রধান উৎস হারানোর ঝুঁকিতে।
বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কাঠামো মূলত চীন ও রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল।
উদাহরণস্বরূপ—
- সেনাবাহিনীর ৮৮% ট্যাংক চীনা,
- রকেট লাঞ্চারের ৬৫% চীনা,
- সাঁজোয়া যান, গোলাবারুদের কাঁচামাল—অধিকাংশই রাশিয়া ও সোভিয়েত যুগের,
- বিমানবাহিনীর অধিকাংশ যুদ্ধবিমান F-7 ও MiG-29,
- নৌবাহিনীর দুই সাবমেরিন চীন থেকে।
এই সবকিছুই এখন হুমকির মুখে।
প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রের “একটি নির্দেশনাই” যথেষ্ট—আমাদের প্রতিরক্ষা সম্পূর্ণ অকার্যকর করতে।
বিশ্বস্ত সূত্র অনুযায়ী,
সম্প্রতি ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন একটি গোপন বৈঠকে হুমকি দিয়েছেন।
যদি চীন বা রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখা হয়, তবে সশস্ত্র বাহিনীকে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে।
এই ‘হুমকিপূর্ণ কূটনীতি’ কেবল ড. ইউনূস নয়, আমাদের সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কূটনৈতিক স্বাধীনতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
এমন সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু সামরিক খাতে নয়—অর্থনীতিতেও মারাত্মক।
বাংলাদেশের প্রধান শিল্প—গার্মেন্টস—প্রায় ৭০% কাঁচামাল চীন থেকে আসে। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হলে, গার্মেন্টস উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
একইভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি, চিনি ও সার উৎপাদনে প্রয়োজনীয় উপকরণ—সবই চীননির্ভর।
চীনের প্রতিক্রিয়া শুরু হলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে, আমদানির সময় ও খরচ বাড়বে, রপ্তানি অর্ডার বাতিল হতে থাকবে।
শেখ হাসিনা যত সমালোচিতই হোন না কেন, তিনি বিদেশনীতি ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ক্ষেত্রে চীন, ভারত, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রেখেছিলেন।
অথচ মাত্র এক বছরে ড. ইউনূস সেই কৌশলগত গভীরতা নষ্ট করে দিয়েছেন।
বাংলাদেশকে পরিণত করেছেন একটি একপাক্ষিক, দুর্বল ও চরমভাবে নির্ভরশীল রাষ্ট্রে। এটি নিছক বিদেশনীতির ব্যর্থতা নয়—এটি একটি জাতীয় বিশ্বাসঘাতকতা।
এটি এমন এক শাসকের কাজ, যিনি নির্বাচিত নন, জবাবদিহির আওতায় নেই, এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ নন।এই চুক্তি কেবল অবৈধই নয়, এটি দেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি।
আজ যদি আমাদের ট্যাংক না চলে, যুদ্ধবিমান উড়তে না পারে, অর্থনীতি সংকটে পড়ে—তাহলে তার দায় কাকে যাবে?
জনগণ নয়, এই ষড়যন্ত্রকারী অন্তর্বর্তী সরকারকে। ইতিহাস হয়তো এই অধ্যায়কে মনে রাখবে—কিন্তু তা গর্বের জায়গা নয়, লজ্জার দলিল হিসেবেই।
